বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ম্যাচে নাইজেরিয়ার খেলায় আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলে উল্লাস করায় সময় ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পৌর শহরের চর শিলাসী এলাকার সুলতান মিয়া (৬০) নামের এক আর্জেন্টিনা সর্মথক হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা নাইজেরিয়া মুখোমুখি হয়েছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার শেষ সুযোগ। তাই সবার মধ্যে একটু বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছিল। সুলতান মিয়া অনেক দর্শকের সাথে গফরগাঁও প্রেসক্লাবে বসে টেলিভিশনে আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়ার শ্বাসরুদ্ধকর খেলা দেখছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৮৬ মিনিটে আর্জেন্টিনা যখন জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি করে এই টেলিভিশন সেটের সামনে উপস্থিত আরো অনেক আজের্ন্টিনা সর্মথকের মত গলা ফাটিয়ে, চিৎকার করে উল্লাস করছিলেন। এ সময় সুলতান মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। সুলতান মিয়া পেশায় ভ্যান চালক ছিলেন। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

 

আরো দেখুন :  শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের পর হাসপাতালে ম্যারাডোনা

দ্বিতীয়ার্থে দম বন্ধ হওয়া একেকটা মুহূর্ত। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি আর্জেন্টিনা ভক্তের অবস্থা তখন একই। মাঠে মেসিরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় প্রতিপক্ষের জালে গোল ছুঁড়তে। আর ভক্ত-সমর্থকরা প্রার্থনায়রত। অলৌকিক কিছু হোক! আর্জেন্টিনা নক আউটে পৌঁছাক। এমন আবেগময় মুহূর্তে গ্যালারিতে কিংবদন্তি ম্যারাডোনা। শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচের পর হাসাপাতালে যেতে হয়েছে তাকে।

কাল গ্যালারিতে উত্তরসূরিদের পায়ে পায়ে প্রতিক্রিয়া ঝরছিল ম্যারাডোনার। গোল মিস হলেই মুখ ঢেকে হতাশ হয়ে বসে পড়ছিলেন। আবার বল নিয়ে মেসি ছুটলেই আনন্দে চোখ চিকচিক করছিল তার। শেষ পর্যন্ত তার মুখে হাসিই ছিল স্থায়ী। ২-১ গোলে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে নক আউটে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। ফুটবলবিশ্বকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছে মেসিরা।

এরপর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি ম্যারাডোনা। আবেগের বন্যায় ভেসেছেন তিনি। শরীরটা তেমন ভালো ছিল না আগে থেকেই। প্রথমার্ধে নাকি ঘুমিয়েও পড়েছিলেন তিনি। তবে সেটা কিছু সময়ের জন্য। এরপর আবারো দলকে গ্যারারি থেকে উৎসাহ দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

কিন্তু ম্যাচ শেষে শরীরের শক্তি হয়ত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। অন্যের সাহায্য নিয়ে গ্যালারি ছেড়েছেন তিনি। এ সময় স্টেডিয়ামের মধ্যে একটি চেয়ারের ওপর পরেও গিয়েছিলেন। পরে মাঠের প্যারামেডিকেল কর্মীরা প্রেশার মেপে ম্যারাডোনাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠান।

তবে চিন্তার কিছু নেই। ম্যারাডোনা এখন সুস্থ আছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমনটাই জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনার স্থানীয় পত্রিকা লা নাসিওনের বরাত দিয়ে বলা হয়, ম্যারাডোনা লো প্রেশারে ভুগছিলেন। স্টেডিয়ামে তার প্রেশার মাপার পর হাসাতালে নেয়া হয়। সেখানে থেকে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।