ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সৎ ছেলের লাঠির আঘাতে ফাতেমা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কুটি ইউনিয়নের দক্ষিণখাড় গ্রামের হাজী সেলিম মিয়ার স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী।

জানা যায়, রোববার ভোরে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ফাতেমার সৎ ছেলে নোয়াব মিয়া (২০) লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সেলিম মিয়া বাদী হয়ে তার ছেলে নোয়াব মিয়াকে আসামী করে কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকে নোয়াব মিয়া পলাতক রয়েছেন।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মালেক জানায়, উপজেলার দক্ষিণখাড় গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার হাজী সেলিম মিয়া চার বিয়ে করেছেন। চার স্ত্রীর ঘরে তার ১৪ জন সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন ঝামেলা নিয়ে তৃতীয় স্ত্রীর ছেলে নোয়াবের সাথে চতুর্থ স্ত্রী ফাতেমার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে রোববার ভোরে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ফাতেমাকে নোয়াব লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ফাতেমা গুরুত্বর আহত হয়। পরে স্থানীয় বাজারের গ্রাম্য চিকিৎসক ইসমাইল তার মাথা সেলাই সহ চিকিৎসা করেন। চিকিৎসা শেষে ফাতেমাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা মারা যায়।

ঘটনার পর সহাকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আবদুল করিমসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


স্ত্রীকে নির্যাতনের সময় গণধোলাই খেলেন স্বামী

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা


স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সূর্য খাতুন (২৬) নামের প্রাক্তন স্ত্রীকে লোকালয়ে নির্যাতনের সময় স্থানীয় জনতা ওই নারীর স্বামীকে গণধোলাই দিয়েছে।

শনিবার বিকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রীজ রেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায় নয় মাস আগে চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা কৃঞ্চপুর গ্রামের মৃত রমজান সরকারের ছেলে ফজলু সরকারের সাথে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়নের ধানুয়াঘাটা গ্রামের জুব্বার মোল্লার মেয়ে সূর্য খাতুনের বিয়ে হয়। সূর্যের মা আনোয়ারা খাতুন বলেন,বিয়ের জামাই-মেয়ে এক সঙ্গে ঢাকাতে থাকতো। সম্প্রতি সূর্য খাতুন তার স্বামীকে তালাক দেন। ঈদের ছুটি শেষে সূর্য ঢাকা যাওয়ার জন্য শনিবার বড়াল ব্রীজ স্টেশনে গেলে তার প্রাক্তন স্বামী ফজলু তার ওপর হামলা চালায়।

এক পর্যায়ে ওই নারীর চুলের মুঠো ধরে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্টেশনে থাকা জনতা ফজলুকে গণধোলাই দিলে সে পালিয়ে যায়। পরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সূর্য খাতুন জানান বিয়ের এক মাস পরই তার স্বামী যৌতুকের দাবীসহ নানা অকারণে তাকে অমানষিক নির্যাতন শুরু করেন। ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাহীন কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।