যশোরের চৌগাছায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় রোকেয়া বেগম (৫১) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে আরো ৭ জন। নিহত নারী উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দীকরে স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে চৌগাছা শহরের (চৌগাছা-কোটচাদপুর) সড়কের ইছাপুর বটতলা সাহাবা মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতারা হলেন রোকয়া বেগমের স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫), কন্যা রিমি খাতুন (১৭), উপজেলার পেটভরা গ্রামের শহিদের স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪৪), রাবেয়া খাতুন (৬৩), ছবিরন নেছা (৫৭), আমেনা বেগম (৬১), জহুরা বেগম (৬০), ও নাছরিন খাতুন (২৫)। আহতরা সকলেই চৌগাছা মডেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

এ ঘটনায় আহত নিহতের স্বামী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে আমরা জগদিশপুর গ্রাম থেকে একটি আলম সাধুযোগে চৌগাছায় আসছিলাম। পথিমধ্যে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ইছাপুর বটতলা সাহাবা মসজিদের সামনে পৌছালে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় আলম সাধু (স্থানীয় ইঞ্জিনচালিত যান) চালক গাড়ি থামিয়ে চৌগাছা অভিমুখে কোটচাদপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস থামার জন্য দু-হাত উঁচু করে থামেন-থামেন বলে অনুরোধ করতে থাকেন।

বাসটির (যশোর-ব-৮৪৯) চালক গতি না থামিয়ে চৌগাছার দিকে অতিদ্রুত চলে যায়। এ সময় বাসটি আলমসাধুটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে যাত্রীরা ছিটকে পিচের সড়কের উপর পড়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরেও বাসচালক তাদের উপর দিয়ে বাস চালিয়ে চৌগাছার দিকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নছিমনের যাত্রীরা সকলেই আহত হন। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকেয়া বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া রোকেয়ার স্বামী আবু বক্করসিদ্দীক ও হাজেরা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী তৈয়ব আলী ও মুক্তার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বাস চালক ইচ্ছ করেই এ আচরণ করেছেন। এ ঘটনার পর চৌগাছা থানা পুলিশ চৌগাছা মটরযান শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে সামনে থেকে ঘাতক বাসটিকে আটক করেছেন।

এ ব্যাপারে চৌগাছা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরাইয়া পারভীন রোকেয়া নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন গুরুতর আহত হওয়ায় আবু বক্কর সিদ্দীক ও হাজেরাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক আকিকুল ইসলাম বলেন ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে।