মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচরের পুকুর থেকে নিখোঁজ স্কুল ছাত্র শহিদুল ইসলাম শান্তের (১৬) লাশ উদ্ধার হয়েছে। সে ভবেরচর ওয়াজের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র। শনিবার প্রথম সাময়িকের অঙ্ক পরীক্ষা শেষে দুপুরে দুই গ্রামের শিক্ষার্থীদেও মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সে নিখোঁজ হয়। এই নিখোঁজের ঘটনায় কোথাও খুঁজে না পেয়ে তার মা সাফিয়া ইসলাম রবিবার সকালে গজারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করে।

এদিকে বিকালে তার লাশ স্কুলের রাস্তার পাশের পুকুরে ভেসে উঠে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। লাশ দেখে তার স্বজন এবং সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভবেরচরের কলেজ রোডে বাসিন্দা সিএনজি স্কুটার চালক মিলন মোল্লার পুত্র শান্ত। মিলন মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। সে স্থানীয় পৈক্ষারপাড় গ্রামে বিয়ে করেছেন। সেই সূত্রে এখানে বসবাস করছেন।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার ঘারে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শান্তর পরনে স্কুল ড্রেস। পকেটে ছিল অস্ক পরীক্ষার প্রশ্ন, কলম এবং স্কেল।

গজারিয়ার থানার ওসি (অপরাশেন) মো. মামুন আল রশীদ জানান, পরীক্ষার শেষে শনিবার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুরা ও ভবেরচর কলেজ রোড এলাকার দু’দল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এই সময় হয়তো আঘাত প্রাপ্ত হয়ে শান্ত পানিতে পরে যায় অথবা তাকে আঘাত করে ফেলে দেয়া হয়। তবে তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।

নিহত স্কুল ছাত্র শান্তের সহপাঠী ও স্বজনরা জানায়, শুক্রবার ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই বিদ্যালয়টির পরীক্ষা শেষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়। ফেসবুকে একাধিক আইডি থেকে ছড়িয়ে দেয়া হয়- ভবেরচরের কলেজ রোড ও পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুরা গ্রামের মধ্যে বিবাদ চলছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

শান্তর মা সাফিয়া ইসলাম বলেন, শান্ত সকালে ১০টার কিছু আগে পরীক্ষা দেয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু পরীক্ষার পর মারামারি সংবাদ পেয়ে ছেলে খোঁজ নেন। সহপাঠীরা জানান, পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরে এসেছে। কিন্তু তাকে না পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন। কোন খোঁজ না পাওয়ায় তিনি থানায় জিডি করেন।

বিদ্যালয়টির অভিভাবক সদস্য আলহাজ আব্দুল হান্নান সরকার বলেন, “শান্ত মানবিক বিভাগের ছাত্র। তার এই নিখোঁজের ঘটনায় স্কুল কৃর্তপক্ষও যথাসাধ্য খোঁজ খবরসহ প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তার লাশ উদ্ধারের পর শোকেয় ছায়া নেমে আসে বিদ্যালয়ে। সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।”

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন স্কুল ছাত্রের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করে বলেন, “এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ”