‘ড্রেজার মেশিন বহায়ে বালু তোলার কারণে এইহান দিয়া নদী মেলা গভীর অইছে। এহন নদীর কাছার ভাঙতাছে। আর আমগরে বাড়ি-ঘর, জমি-জিরাত, গাছগাছালি সবই নদীয়ে খাইতাছে। আমরা এহন কই যামু।’ জামালপুর পৌরসভার হরিপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ষাটোর্ধ বয়সী মোফাজ্জল হোসেন এসব কথা বলেন।
গত সাতদিন ধরে জামালপুর পৌরসভার হরিপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়ক। গত দু’দিনে পাঁচটি পরিবারের ১১টি ঘরসহ বসতভিটা ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে। অন্তত ২৫টি পরিবার তাদের ঘর ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে এবং গাছ গেটে ফেলছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী এলাকায় হঠাৎ এমন ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কসহ বিস্তীর্ণ জনতবসতি এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হওয়ার আশংকা করেছেন স্থানীয় লোকজন। ভাঙন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙন কবলিত পৌরসভার হরিপুর গ্রামে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়ক থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ মাত্র ৩০ ফুট দূরত্বে রয়েছে। গত দু’দিনে নূরুল মিস্ত্রি, রেনু বেগম, হাশেম আলী, আজিজুল হক ও মমতাজ আলীর ১১টি টিনের ঘর ও বসতভিটা ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই জানান, শুকনো মওসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরঘেঁষা এলাকা থেকে অসংখ্য ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছে প্রভাবশালী মহল। এ কারণে ওই স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের গভীরতা বেড়েছে। চলতি বর্ষায় এসব স্থানে পানি প্রবাহের সময় ঘূর্ণিপাক সৃষ্টি হয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে জামালপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফজলুল হক আকন্দ বলেন, ‘আমি তিনদিন আগে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে সাথে নিয়ে ভাঙন কবলিত এলাকা দেখিয়েছি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে আজও জরুরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের হরিপুর অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে।’



