যশোরের চৌগাছায় যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম কোনো মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই স্কুলমাঠ থেকে ১৯টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করে নিয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। সভাপতি ওই গাছ কাটা বৈধ করতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দিতে শিক্ষকদেরকে নানা চাপদিতে থাকেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামানসহ সহকারী শিক্ষকরা গাছ কাটার বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তা বিরোধে রুপ নেয়। গত ১ লা জুলাই সভপাতির হাতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন।
গত বুধবার শিক্ষকরা এ ঘটনায়, সভাপতির অপসারণ ও প্রতিকারের দাবিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন ও কাস্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার অরূপকুমার লস্কার তদন্তের জন্য স্কুলে যান। এ সময় উপস্থিত জনসাধারণ, প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক লাঞ্ছিত করার বিচারের দাবি ও স্কুল মাঠের ১৯টি বিভিন্ন জাতের গাছ কাটার কথা শিক্ষা অফিসারকে জানালে তিনি বলেন গাছ কাটার ঘটনাটি আমার সময়ে ঘটেনি। তবে শিক্ষক লাঞ্ছিত করার বিচার আমরা বিভাগীয়ভাবে করব।
আমিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১৫ মে সভাপতি মনোনীত হন। সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচারণ শুরু করেন। যার ফলে মখলেছুর রহমান, শারমিন্নাহার নাইস ও রবিউল ইসলাম নামে তিনজন শিক্ষক অন্য স্কুলে বদলি হয়ে চলে গেছেন। সর্বশেষ ১৩ মে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কামরুজ্জামান। তিনি যোগদানের দুই মাস পার না হতেই সভাপতির হাতে লাঞ্ছিত হলেন।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন বদলির জন্য আবেদন করেছি।
সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল যা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন মীমাংসা করে দিয়েছেন। আর গাছ কাটার বিষয়টি আদৌ সত্য নয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত ও বদলির আবেদন পেয়ে গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন তদন্ত করে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করে দিয়েছি।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও ভাইসচেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চৌগাছায় যাত্রাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ
যশোরের চৌগাছায় যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম কোনো মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই স্কুলমাঠ থেকে ১৯টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করে...



