রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে অগ্রণী ব্যাংকে ৩শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শাখা ব্যবস্থাপকের হাতে ধরা পড়ে । বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় লোকজন জানান, বিদ্যালয়ের অনুকুলে সরকারী অর্থগ্রহণের নিমিত্তে বাৎসরিক চুক্তিপত্রে ৩ শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষর করে সম্পাদন করার স্ট্যাম্প ব্যাংকে দাখিলের বিধান রয়েছে। সে বিধান অনুযায়ী উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে নিজে স্বাক্ষর করার পর বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রেজাউল করিমের ইতিপুর্বের স্বাক্ষর স্কান করে স্ট্যাম্পে বসিয়ে অগ্রণী ব্যাংক নলিয়া জামালপুর শাখায় লোকমারফত গত ১৮ জুলাই দাখিল করেন। আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে ও বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিমের স্বাক্ষর যুক্ত ৩শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প অগ্রণী ব্যাংক নলিয়া জামালপুর শাখার ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের নিকট দাখিল করার পর সভপতির স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরটি স্কান করার বিষয়টি টের পান। এসময় স্ট্যাম্প ফেরত এনে প্রধান শিক্ষকের নিকট ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম জানান, আমার স্বাক্ষর জাল করে অগ্রণী ব্যাংক জামালপুর শাখায় দাখিল করে প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে। বিষয়টি জানার পর আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি।
আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে জানান, গত বছরের অঙ্গিকার নামার একটি ফটোকপি ব্যাংকে লোকমারফত পাঠিয়ে বলেছিলাম যে হবে নাকি। ব্যাংক তা গ্রহন না করে ফেরত দেয়। তবে জালিয়াতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
অগ্রণী ব্যাংক নলিয়া জামালপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মেহেদী হাসান জানান,উপজেলার প্রত্যেক স্কুলের শিক্ষকরা অগ্রণী ব্যাংক থেকে বেতন নেন। সে অনুযায়ী জুলাই মাসে প্রত্যেক স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত ৩শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে অঙ্গিকারনামা প্রদানের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার দে এ রকম একটি অঙ্গিকার নামা ব্যাংকে পাঠালে দেখা যায়, নিজে স্বাক্ষর করেছে এবং সভাপতির স্বাক্ষর স্কান করে বসানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পর দাখিলকৃত লোকটি স্ট্যাম্প ফেরত নিয়ে আসে। তবে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।