গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানিরচর গ্রামের কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক ইয়াসিন ফরাজীকে(৫৫) ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে গ্রাম্য সালিশে দেড়লাখ টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে পড়া বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিজ স্কুলে কক্ষে এনে ধর্ষণের চেষ্টা করে ইয়াসিন। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষক ইয়াসিনকে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখে। ইয়াসিনের স্বজনরা সুষ্ঠ বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাকে উদ্ধার করে। শনিবার রাতে স্থানীয় ইলিয়াস মোল্লার ঘরে বসে সালিশে ইয়াসিন অপরাধ স্বীকার করে দেড়লাখ টাকা জরিমানা ও মৌখিক মুচলেকা দিয়ে রেহাই পায়। টাকা পেয়ে সামাজিক সহবস্থানের কথা চিন্তা করে মীমাংসা করার কথা স্বীকার করেন মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা।

সালিশে উপস্থিত হোসেন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনে জানান, কিন্ডার গার্টেন স্কুলের মাষ্টারের চলাফেরা খারাপ এবং সে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাচ্চাদের খুঁজে তাঁর স্কুলে ভর্তির চেষ্টার জন্য তাঁর বিচার করেছি।

অভিযুক্ত ইয়াসিন ফরাজীর বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, ফোন করে কথা বলতে চাইলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, আমরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আরো পড়ুন :

ছাত্রীর শ্লীলতাহানি : অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবীতে সড়ক অবরোধ
ঘাটাইল ( টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে আজ রবিরার দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিং মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষকের বিচার ও অপসারণ দাবী করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। উপজেলা প্রধান ফটকের সামনে দুই ঘন্টাব্যাপী অবরোধে অচল হয়ে পরে মহাসড়কটি। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার করা হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় ছাত্রীরা।

জানা যায়, ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক এনামুল হক শিক্ষকতার পাশাপাশি সৃষ্টি কোচিং সেন্টার নামে একটি নাইট কোচিংয়ের পরিচালক ও শিক্ষক। গত ২৫ জুলাই ঘাটাইল বাজারস্থ কালী মন্দিরের পেছনে সৃষ্টি কোচিংয়ে পড়তে যায় তারই নিজ প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। বেশ কিছু দিন আগে থেকেই শিক্ষক এনামুলের কুনজর পরে ঐ ছাত্রীর উপর।ছাত্রীটি ঘটনার রাতে অন্য সকল ছাত্র-ছাত্রীর মতোই স্বাভাবিকভাবে কোচিং ক্লাসে অংশ নেয়। কোচিং ক্লাস চলাকালিন সময় এনামুল পাশের একটি নির্জন কক্ষে তাকে ডেকে নিয়ে কুপ্রস্তাব এবং তার গায়ে হাত দেয়। ছাত্রীটি শিক্ষকের এমন আচরণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরে এবং বিষয়টি ঐ রাতেই তার বাবা-মাকে জানান। পরের দিন ২৬ জুলাই তার বাবা এমন নেক্কার জনক ঘটনা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে অবহিত করেন। ঐ দিন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ বিষয়টি আমলে নিয়ে এক জরুরী সভা ডাকে। সভায় শিক্ষক এনামুলকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।শিক্ষক এনামুল বাংলাদেশ ওলামালীগ ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (মাধ্যমিক) ঘাটাইল শাখার দপ্তর সম্পাদক।


এ বিষয়ে ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম জানান,লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাকে পরিচালনা পরিষদের জরুরী সভায় বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিক অব্যহতি প্রদান করি।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, ঘটনায় ৫সদস্যের একটি তদস্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে তিনি দোষি সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

আরো পড়ুন :

 ১ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ১ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ৭ বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রীকে হাত পা বেধে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে আবির হোসেন (১৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শিশুটি স্থানীয় কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ১ম শ্রেনীর ছাত্রী। শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে শনিবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুর মা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। 

শিশুর মা জানান, তারা স্বপরিবারে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূঁইয়াপাড়া এলাকার দীল মোহাম্মদের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করেন। বাড়ির মালিকের ভাই আলী হোসেনের ছেলে আবির হোসেন শুক্রবার বিকেলে সবার অজান্তে শিশুটিকে তার ঘরে নিয়ে হাত পা বেধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুর আর্তচিৎকারে শিশুর মা সহ আশে পাশের লোকজন ছুটে আসলে দৌড়ে পালিয়ে যায় আবির। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আবিরের পরিবারসহ তাদের লোকজন চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে আবিরের লোকজন ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না করতে শিশুর পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার জানান, শিশু ধর্ষণের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে মামলা রুজু করা হবে।