জামালপুরের ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ পুত্রবধূ সালমা আক্তারকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর ফারাজিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ডিগ্রিরচর ফারাজিপাড়া গ্রামের সনতেশ আলী (৫৫) ও তার ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডিগ্রিরচর ফারাজিপাড়া গ্রামের কৃষক সনতেশ আলীর ঘরের বৈদ্যুতিক লাইনের তারে ত্রুটি দেখা দিলে টিনের চাল বিদ্যুতায়িত হয়। এ সময় সনতেশ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন বিদ্যুতের লাইনের ত্রুটি ঠিক করতে গেলে সাথে সাথেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ অবস্থা দেখে তার বাবা সনতেশ আলী ও নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী সালমা আক্তার তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যে সনতেশ আলী ও নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্বজনরা গুরুতর অসুস্থ সালমা আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

আরো পড়ুন :
ইজিবাইকের ধাক্কায় বৃদ্ধ পথচারী নিহত
জামালপুর ও বকশীগঞ্জ সংবাদদাতা
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে একজন বৃদ্ধ পথচারী নিহত হয়েছেন। তিনি জেলার বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার কাগমারিপারা গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে। বুধবার রাতে বকশীগঞ্জ-টুপকারচর সড়কের কাগমারিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার কাগমারিপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী অতিরিক্ত গরমের কারণে রাত ৮টার দিকে তার বাড়ির সামনে বকশীগঞ্জ-টুপকারচর সড়কের পাশ দিয়ে হাটাহাটি করছিলেন। এ সময় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ইজিবাইকটি আটক করে পুলিশে দিয়েছে। কিন্তু এর চালক পালিয়ে গেছে।

আরো পড়ুন :

প্রতারণার শিকার গৃহবধূ
ইসলামপুর (জামালপুর) সংবাদদাতা

ইসলামপুরে গ্রাম্য মাতŸরদের প্রতারণার শিকার অসহায় মাজেদা ন্যায় বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
জানা যায়, গঙ্গাপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে মাজেদা খাতুনের সাথে ৯ মাস আগে বলিয়াদহ গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আল-আমীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আল-আমীন ও তার পরিবার মাজেদাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে নিরীহ আশরাফ আলী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে বাধ্য হন। এরপরও মাজেদার ওপর আরো যৌতুকের জন্য নির্যাতন চলে। নির্যাতন সইতে না পেরে মাজেদা চলে আসে বাবার বাড়িতে।

মাজেদার অভিযোগ, গত ১৭ জুন এলাকার কোরবান আলীসহ কিছু মাতŸর আপস-মিমাংসার কথা বলে তাকে ও তার বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপসনামায় স্বাক্ষর নেয়ার নামে প্রতারণা করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। অবশেষে মাজেদা স্ত্রীর অধিকার ও ন্যায় বিচারের দাবিতে ২২ জুলাই স্বামীর বাড়িতে অনশন শুরু করেন। পরে বকশীগঞ্জের ফারাজিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি এম কলেজর প্রভাষক মকুল ও এলাকার মাতŸর জাহিদ আনোয়ারসহ কিছু ব্যক্তি তাকে বিচারের আশ^াসে অনশন ভঙ্গ করান। তিনি ন্যায় বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। 

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী শাহিন জানান, মেয়েটার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য সবাইকে নিয়ে বসা হবে।

আরো পড়ুন :

পদ্মার ভাঙনে দু’দিনে গৃহহীন ৮ পরিবার
ফরিদপুর সংবাদদাতা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীতে আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে উপজেলার বাইল্যা ডাঙ্গী ও ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে নদীতে বিলীন হয়েছে আটটি বসত বাড়ি, ২০ বিঘা ফসলি জমি ও দুই শতাধিক মূল্যবান গাছপালা। প্রথম দফা ভাঙনের পর গত দুই সপ্তাহ স্থির থাকলেও পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে নতুন করে এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। 
নতুন করে ভাঙনের শিকার হয়েছে বালিয়া ডাঙ্গীর রাজ্জাক মোল্যা, হানিফ মোল্যা, ইসহাক মোল্লা, সিদ্দিক মোল্যা, জয়নাল মোল্যা, মুনসর মোল্যা, আলমগীর সিকদার ও আলামীন সিকদারের পরিবার। নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এদের কেউ স্বজনদের নিকট কেউবা সরকারি রাস্তার পাশে আবার কেউ বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। 

এ দিকে ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র ৩ মিটার দূরে চরম ঝুঁকিতে থাকা ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় ও বাইল্যাডাঙ্গী গ্রামে একটি জামে মসজিদ যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। পাশাপাশি এমপিডাঙ্গী প্রাইমারি বিদ্যালয়, মোল্যাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবনির্মিত একটি কমিউনিটি কিনিক, কয়েকটি মসজিদ, পাকা সড়ক ও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। 
নদী ভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ জানান, অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে এমপিডাঙ্গী, ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী ও বাইল্যাডাঙ্গী গ্রামে পদ্মা তীরে জিও ব্যাগের ডাম্পিং কাজ চলছে। এ ছাড়া চরভদ্রাসনে পদ্মাতীরের স্থায়ী সংরক্ষণে ২৯৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে বলে তিনি জানান।