ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর খাবলাপাড়া গ্রামের কিশোরী ইতি আক্তার (১৪) ভুগছে দুরারোগ্য ক্যান্সারে।
চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ইতির বাবা মনু মিয়া। মা নার্গিস আক্তার বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করেন। দুই বছর আগে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিনেই বাড়ি ফেরার পথে আকস্মিকভাবে বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ব্যথা অনুভব করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। তখন রিকশায় সহপাঠীরা তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। ওই দিন রাত থেকেই একটু একটু ফুলতে থাকে তার পা।
সমাপনী পরীক্ষার দুই দিন পর স্থানীয়দের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ইতির মা তাকে ময়মনসিংহের ডেলটা হেলথ কেয়ারে ভর্তি করেন। চাচাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তার মা। এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে ধরা পড়ে বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে ক্যান্সার হয়েছে তার। ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত পায়ের হাঁটুর ওপর থেকে নিচের অংশ কেটে ফেলেন চিকিৎসক।
ভিটেবাড়ির বাইরে কয়েক শতক জমি ছাড়া কোনো সম্পদ নেই ওই পরিবারের। তার চাচারা সবাই দিনমজুরি করেন। পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন সম্ভব না হওয়ায় ইতির চিকিৎসা চলে ধারকর্জ করে। কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর চিকিৎসালয় থেকে বাড়ি ফিরে স্থানীয় আলী আকবর ভূঁইয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় সে। এলাকার লোকজনের সহায়তায় থেমে থেমে মাস ছয় চলে চিকিৎসা। এখন টাকার অভাবে একবারেই বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা। সে এবার সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। কিছুটা সুস্থ বোধ করলেই এক পায়ে ভর করে যায় স্কুলে।
ইতির চিকিৎসক জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিয়েশন অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের রেজিস্ট্রার সাজ্জাদ হোসেন জানান, নিয়মিত তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই ইতির এ ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। সাহায্যের জন্য যোগাযোগ : বিকাশ নাম্বার-০১৭৮২৪৩১৬৭১, সাথী আক্তার (ইতির বড় বোন)।