পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি পারের অপেক্ষায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত রোববার রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালীন যাত্রীবাহী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাকের বিশাল লাইন ঘাট এলাকা থেকে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী পরিবহন পার করায় উভয় ঘাটে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় আটকে পড়ে। সময়ের সাথে সাথে এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাওয়ার পদ্মায় নাব্যতা সঙ্কটে রো-রো ও ডাম্প ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এখানে এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সুবাদে ঘাটে বুকিং কাউন্টারে দালালচক্র বেশ সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাটুরিয়া রুটে ফেরিতে পারাপারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। ঘাটে যানজট বৃদ্ধি পেলে এর পরিমাণ আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। ফেরির বুকিং কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হর-হামেশা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। যার পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ টাকার ভাগ পৌঁছে যায় অনেক মহলে। যে কারণে এ অনিয়ম যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বুকিং কাউন্টারে তাদের চাহিদানুযায়ী টাকা না দিলে সিরিয়াল মেলে না। স্বাভাবিক সময়ে পণ্যবাহী ট্রাক পারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা গুনতে হয়। কোনো কারণে ঘাটে যানজট বাঁধলে তা এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় উঠে। তবে, বুকিং কাউন্টারে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে। যানজটকে পুঁজি করে ঘাট এলাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবার মূল্য বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
ফেরি সেক্টর বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, যানবাহন পারাপারের জন্য এ রুটে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শিমুলিয়া রুটের এনায়তেপুরী, শাহ মুখদুম ও ক্যামেলীয়া নামে তিনটি ফেরি এ বহরে যোগ হচ্ছে। বর্তমানে বহরের হামিদুর নামে একটি রো-রো ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ বন্ধ রয়েছে। অন্যগুলো যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে।



