বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম হাওলাদারকে (৪২) গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাতে নিজবাড়ি হাজীপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া একই দিন রাতে আগরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি পিয়াল হাওলাদারকে (২২) সরিকল ইউনিয়ন যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী বাস থেকে নামিয়ে পিটিয়ে আহত করে পুলিশে সোপর্দ করে। গ্রেফতারকৃত যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) এস এম আফজাল হোসেন জানান, উপজেলার পিংলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিংলাকাঠী-সরিকল সড়কের বিদ্যালয়ের সামনে শোক দিবসে নির্মিত তোরণের কাপড় চুরির মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলার হাজীপাড়া গ্রামে শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলাম হাওলাদারকে গ্রেফতার করে। গত ২১ আগস্ট তোরণের কাপড় খুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরেরা। এ ঘটনায় পরের দিন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে গৌরনদী থানায় একটি মামলা করেন। যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমাকে রাজনৈতিক হয়রানি করতে চুরির অপবাদ দিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় সরিকল পালপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা পিয়াল হাওলাদার (২২) নামে এক মাদকসেবীকে আটক করেছে বলে সরিকল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে খবর দেন। পুলিশ রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় চারপিস ইয়াবাসহ পিয়ালকে উদ্ধার করে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে। আগরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি পিয়াল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত ৮টায় আমি আগরপুর থেকে লোকাল বাসে উঠে সরিকল বাজারে রওনা হই। রাত সোয়া ৮টায় সরিকল পালপাড়া নামক স্থানে পৌঁছলে যুবলীগ কর্মী আহাদ মোল্লার নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী আমাকে বাস থেকে টেনে নামিয়ে বেদমভাবে মারধর করে আমার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশ আমার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়।