গোসাইরহাটের চরমাইজারা গ্রামের সাইফুল ইসলাম পাইক (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রকে বুক ও পেটে কাচের টুকরা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাইফুল স্থানীয় চরমাইজারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। শনিবার রাতে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেরার চরমাইঝারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গোসাইরহাট থানা পুলিশ।

গোসাইরহাট থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার চরমাইজারা গ্রামের সাইফুল ইসলামের মামা জুয়েল সরদার সৌদি আরবে থাকেন। জুয়েলের সাথে সৌদি আরবে যায় জামাল ও আবু বক্করের ভাই কামাল সরদার। সেখানে জুয়েলের সাথে কামালের বিরোধ হয়। বর্তমানে কামাল সৌদি আরবের জেল হাজতে আছেন। এ নিয়ে এলাকায় কামালের ভাই জামাল ও জুয়েলের ভাগ্নে সাইফুলের সাথে সাইফুলের ঝগড়া হয়।

সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর কিছু কথা লিখে একটি পোষ্ট দেয় আবু বক্কর। ওই পোষ্টের কথা জিজ্ঞেস করলে তার সাথে সাইফুলের পুনরায় ঝগড়া হয়। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাইফুল স্থানীয় ভিমখিল বাজারে গেলে জ্ঞানভান্ডার লাইব্রেরীর সামনে তাকে মারধর করে জামাল ও আবু বক্কর। এক পর্যায় তারা একটি কাচের টুকরা দিয়ে তার বুকে ও পেটে আঘাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। রাত পৌনে নয়টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল মারা যায়।

এ সময় সৌরভ নামে সাইফুলের এক আত্মীয়ও আহত হয়। আহত সৌরভ গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বাবা আলমগীর পাইক বাদী হয়ে গোসাইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জামাল সরদার ও তার ভাই আবু বক্করসহ নয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ শনিবার রাতেই হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে জামাল সরদার ও তার ভাই আবু বক্করকে গ্রেফতার করেছে।

সাইফুলের বাবা আলমগীর পাইক বলেন, আমার শ্যালক জুয়েলের সাথে ওদের কি হয়েছে তা আমরা জানি না। তারপরও সে বিষয় নিয়ে তারা আমাদের সাথে বিরোধ শুরু করেছে। ফেসবুকে আমাদের সম্পর্কে কটু কথা লিখেছে। এ বিষয়টি সাইফুল জানতে চেয়েছিল। পাষণ্ডরা কাচের টুকরো দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম মেহেদী মাসুদ বলেন, কাঁচের টুকরা দিয়ে বুকে ও পেটে আঘাত করে ওই স্কুল ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাইফুলের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলার প্রধান আসামী জামাল সরদার ও আবুবকর সরদারকে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।