ঈদের ছুটি শেষ। কর্মমুখি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এতে গত ২দিনের মত আজ সোমবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভীর হয়েছে। ফেরি পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে বিভিন্ন প্রকার পাঁচ শতাধিক যানবাহনের দীর্ঘ ৫কিলোমিটার জুরে সারি হয়েছে।
ফেরিতে উঠার জন্য দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে মহাসড়কে প্রায় ৫শতাধিক যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে প্রাইভেটকার ও মাক্রোবাস এর সংখ্যা বেশি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের চাপ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মমুখি সাধারণ মানুষ। অসুস্থ্য প্রতিযোগীতা করে লঞ্চে উঠার চেষ্টা করছেন।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার অসংখ্য মানুষ ঈদ শেষে একযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে গদ রোববার থেকে। এতেকরে দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘাট এলাকায় গতকাল সোমবারও মহসড়কে নদী পারের অপেক্ষায় আটক পড়েছে ছোট-বড় প্রায় সহ¯্রাাধিক যানবাহন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, গত শুক্রবার থেকে ফের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নাব্যতা সংকটে রোরো (বড়) ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতেকরে ওই রুটের পারাপার হওয়া যানবাহনগুলো নদী পার হতে দৌলতদিয়ায় আসছে। আবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকটের পাশাপাশি নদীতে তীব্র স্্েরাতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছে না। প্রতিটি ফেরির ট্রিপ দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুন সময় বেশী লাগছে। এ সব কারণে ঘাট এলাকায় ক্রমাগত যানবাহনগুলো আটকা পড়ছে। আজ সোমবার সকালে ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার যাত্রীবাহী পরিবহনের সারি রয়েছে। এতে করে দীর্ঘ সময় ঘাটে বসে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী যানবাহনের বাড়তি চাপ, নদীতে প্রচন্ড স্রোত এবং শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যহত হওয়ার কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে অতিরিক্ত গাড়ী রয়েছে।
ঈদের দিন পর্যন্ত ২০টি ফেরি নৌরুটে যানবাহন পারাপার করলেও গত রোববার ১৮টি ফেরি চলাচল করে। গত ২২ আগস্ট রোরো (বড়) ফেরি শাহ পরানকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে স্থানান্তর ও অপর রোরো শাহ আলী যান্ত্রিক ত্রুটিতে তিনদিন ধরে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে।
সরেজমিন সোমবার দুপুরের পর দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডমিল পর্যন্ত অন্তত ৫ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যাক্তিগত গাড়িসহ সহ¯্রাধিক যানবাহন ফেরির অপেক্ষায় আটকে আছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যানবাহনের সারি দীর্ঘ হলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যানবাহন গুলোকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে না।
এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে লঞ্চ পারাপার পরিবহনের অনেক যাত্রীকে ঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে লঞ্চঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে ব্যাগ-বোঝা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের।
যশোর দিগন্ত পরিবহনের চালক মোকছেদ আলী জানান, তিনি যাত্রী বোঝাই করে গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে দৌলতদিয়া এসে মহাসড়কে সিরিয়ালে আটকা পড়েন। বিকাল প্রায় পাঁচটা বাজে এখনো দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে আছি। জানিনা আরো কতক্ষন পরে ফেরির নাগাল পাব। তীব্র গরমে বাসের মধ্যে থাকা যাত্রীরা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।
মাগুড়া থেকে ছেড়ে আসা বলাকা পরিবহনের চালক তোমছেল আলী জানান, প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা যাবত দৌলতদিয়ায় এসে সিরিয়ালে আটকা আছি। কিন্তু আমাদের চোখের সামনে দিয়ে টাকার বিনিময়ে ডানপাশ দিয়ে এসি বাস সহ অনেক গাড়ি সরাসরি ফেরি ঘাটে চলে যাচ্ছে। এতে আমরা ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ভাবেও চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
এদিকে যাত্রীবাহি যানবাহনের চাপে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে পাকা মালবাহি ট্রাক পারাপার এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। ঈদের আগে-পরে ৬দিন বন্ধ থাকার পর ঘাটে এসে দুইদিন পরও অসংখ্য ট্রাক ফেরির নাগাল পায়নি। মাগুরা থেকে চট্টগ্রাম গামী স্প্যান আয়রনবাহী ট্রাক চালক শাহিন মিয়া ও রুবেল সরদার জানান, তারা দুইদিন আগে ঘাটে এসেও নদী পার হতে পারেননি। আরো দুইদিন পরও ফেরির নাগাল পাবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। অথচ দালালদের মাধ্যমে ১৪৬০ টাকার টিকিট ২০০০ টাকা দিয়ে কিনে বসে আছি।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন জানান, যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ কমাতে তারা ছোট গাড়িগুলোকে বাইপাস সড়ক দিয়ে এবং অন্যান্য গাড়িগুলোকে ফোরলেন সড়ক দিয়ে দুই সাড়িতে ঘাটে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এ অবস্থায় অপচনশীল পন্যবাহি ট্রাক পারাপার একেবারেই সীমিত করা হয়েছে।
বিআইডব্লিটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সফিকুল ইসলাম জানান, নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। পাঁচটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহন ও নদীতে স্রোতের কারণে যানবাহন আটকা পড়ার ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান,পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও ঈদের পর কর্মমুখি মানুষের যানবাহনের বাড়তি চাপ এবং শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যহত হওয়ার কারণে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে কর্মজীবী মানুষেরা ঢাকা ফিরতে শুরু করায় রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের চাপ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের পারাপার নির্বিঘœ করতে ঘাট থেকে প্রায় ১২কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় কয়েকশত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রেখেছে হাইওয়ে পুলিশ।
গতকাল ২৭শে আগস্ট সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ মোড়ের আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার সামনে থেকে ফরিদপুরের দিকে বসন্তপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ট্রাকগুলোকে মহাসড়কের পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে রাখা হয়েছে। আটকে থাকা ট্রাকগুলোর মধ্যে অপচনশীল পণ্যের পাশাপাশি কাঁচামালবাহী অনেক ট্রাকও রয়েছে। যদিও ঈদের আগের ও পরের ৩দিন ঘাটে ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাই এক সপ্তাহ বসে থাকার পরও এখন আবার আটকে থাকায় এ সকল ট্রাক চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।