বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিজের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত ফেনীর ছাগলনাইয়া ও পরশুরামে পৃথক তিন মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ৩২০ নেতাকর্মীর নামে বিস্ফোরক ও নাশকতা আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ ।
জানা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা আবুল কালাম মাষ্টারের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা মাটিয়াগোদা গ্রামের সালাউদ্দিন নামের এক যুবককে থানা পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সমর্থক মামুন, আলতাফসহ মাটিয়াদোগা গ্রামের শতাধিক এলাকাবাসী ৩১ আগষ্ট বিকেলে আওয়ামীলীগ নেতা কালাম মাষ্টারের বাড়িতে হামলা ও সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ সাত রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহামায়ার চাঁদগাজী বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিসে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক চলাকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি গরীব শাহ হোসেন বাদশা চৌধুরী লাঞ্ছিত হন। এসব ঘটনায় চেয়ারম্যান বাদশার পক্ষ থেকে দুই দিন ধরে মামলার প্রস্তুতি চলার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মামলা দেননি। ৩ সেপ্টেম্বর ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করা, আ'লীগ অফিসে হামলা ও রাস্তা অবরোধের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ জনকে আসামী করে ছাগলনাইয়া থানার উপপরিদর্শক মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নাশকতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার অধিকাংশই বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। মামলার আসামিরা হলেন আব্দুল কাইয়ুম, মো. হানিফ, জহির উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, রিপন, ইব্রাহীম হীরা, জোটন, পারভেজ, কাজী আব্দুল মোতালেব, আজাদ হোসেন, আবুল বশর, জাফর আহাম্মদ চৌধুরী, রিয়াজুল হক তুহিন, কিবরিয়া মজুমদার, মো. মোশারফ, মো. শাহাদাত, কাজী মোজাম্মেল ও মহসিন। ছাগলনাইয়া থানার ওসি এমএম মুর্শেদ পিপিএম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।
অপর দিকে একই দিন রাতে জেলার পরশুরাম থানায় বিষ্ফোরক আইনে বিএনপি ১৭০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পরশুরাম থানা পুলিশ দুইটি মামলা দায়ের করেছেন । গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটপরশুরাম পৌর শহরের আইডিয়াল স্কুলের সামনের রাস্তা ও মির্জানগর ইউনিয়নের সুবার বাজার এলাকায় ককটেলের বিষ্ফোরন ঘটনানোসহ নাশকতার অভিযোগে মামলা দুইটি করা হয়েছে। পরশুরাম থানার এসআই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে পৌর যুবদল নেতা মোঃ শাহিন, আলা উদ্দিন, সরোয়ার করিম মিলন, কামরুল ইসলাম বাবু, মিশফাকুত সামাদ রনি, তারেক, মোহাম্মদ শাহিন, শাহ আলম ছুট্টু, তাহের মিয়া, কালা, সুফল, সফিককের নামোল্লেখ করে ৯০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
অন্য মামলায় একই থানার এসআই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মোঃ আরিফ হোসেন, বাদশা মিয়া, মোঃ রিংকু, মোঃ দুলাল, রাব্বি, মোঃ শাহিন, রেজাউল করিম নিশান, রাজু মিয়া, আবদুল্লা, জয়নাল, মনির হোসেন ও মোঃ রুবেলের নামোল্লেখ করে আরো ৮০ জনকে আসামী করে নাশকতার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দুইটি উল্লেখিত আসামীর বেশিরভাগ বিএনপির নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরশুরাম থানার ওসি মোঃ শওকত হোসেন পুলিশের দায়ের করা দুই মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিজের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত ফেনী ১ আসন ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা অসংখ্য রাজনীতিক হয়রানিমূলক মামলা জর্জরিত বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের নামে পুলিশের দায়ের করা মামলার কারণে বিএনপি এ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন করে গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানাগেছে ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহম্মদ মজুমদার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের নতুন করে দায়ের করা মামলাগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।



