নরসিংদীর মনোহরদীতে আখচাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অল্প খরচে বেশি লাভ, ঝুঁকি কম থাকা ও আখের সাথে সাথি ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয় করা যায় বলে কৃষকেরাও ঝুঁকছেন আখ চাষের দিকে। মনোহরদীতে দিন দিন অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর অত্র উপজেলার গোতাশিয়া, কাচিকাটা, দৌলতপুর ও বড়চাপা ইউনিয়নের প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আখচাষ হয়েছে।
আখ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, রোগব্যাধি কম, ভালো জাত নির্বাচন, সময়মতো কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ পাওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আখচাষ ভালো হয়েছে। আগাম আখ বাজারে আসায় কৃষকেরা বাজারে দাম পাচ্ছেন বেশ।
কৃষকেরা জানান, জলাবদ্ধতামুক্ত এঁটেল দোআঁশ কিংবা বেলে-দোআঁশ মাটিতে কার্তিক মাসে আখের চারা রোপণ করলে পরের কার্তিক মাসেই আখ বিক্রির উপযোগী হয়। আখের চারা রোপণ করার পরেই আখের সাথে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি আলু কিংবা অন্য সবজি লাগিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন কার যায়। এ ছাড়া আখের পাতা গাভীর জন্য যেমন ভালো খাবার তেমনই শুকনো আখপাতা রান্নার জন্য ভালো লাকড়ি।
আখচাষি ইলিয়াস মিয়া জানান, তার ৩৫ শতাংশ জমিতে আখচাষে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আখের ফলন ভালো হওয়ায় এ জমির আখ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
আখচাষি নজরুল ইসলাম জানান, বাজারে আখের বেশ চাহিদা থাকায় জমি থেকেই পাইকার এসে প্রতিটি আখ ১২-১৫ টাকা করে কিনে নিচ্ছেন। এতে তার পরিবহন খরচও হচ্ছে না।
হাতিরদিয়া বাজারে আখের রস বিক্রেতা আসাদ মিয়া বলেন, আকার ভেদে প্রতি গ্লাস আখের রস ১০-১৫ টাকা করে বিক্রি করছি। এভাবে প্রতি দিন আখের রস বিক্রি করে ৪০০-৫০০ টাকা লাভ করতে পারছি।
মনোহরদী উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মাহবুবুর রশিদ বলেন, মনোহরদী উপজেলার কিছু এলাকার মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী। আমরা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আখচাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে আখ চাষের জন্য উৎসাহ প্রদান করে আসছি।
মনোহরদীতে আখচাষে সফলতা
নরসিংদীর মনোহরদীতে আখচাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অল্প খরচে বেশি লাভ, ঝুঁকি কম থাকা ও আখের সাথে সাথি ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয়...



