ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অপহৃত তরুণ তোফায়েল আলম ওরফে জীবন মহামুদ (৩৮) কে ২২ ঘন্টা পর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে আটকার দিকে চেচরাখালি এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।
রোববার সকালে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উদ্ধারের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ শনিবার রাত ১২টার দিকে গৌরীপুর থানার এসআই রিপন চন্দ্র সরকারের নিকট জীবন মাহমুদকে হস্তান্তর করেন। পরে রাত ২টার দিকে তাঁকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
জীবন মাহমুদের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শালীহর গ্রামে। তিনি মরহুম হাজী মহব্বত আলী ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির চতুর্থ ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ট্রেনের টিকিট ক্রয়ের জন্য জীবন মাহমুদ শহরের নতুন বাজার এলাকায় তার বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। মুঠোফোনটি খোলা থাকলেও কেউ রিসিভ করেন না। রাত ৩টার পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকালে তার ছোটভাই আবু রায়হান গৌরীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।
রোববার জীবন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাতে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার পথে স্টেশন সংলগ্ন নতুন বাজার এলাকায় অজ্ঞাত ৪ জন যুবক তার মুখে চেপে ধরে তাকে অচেতন করে ফেলে। এরপর কি ঘটেছে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। পরদিন শনিবার পরদিন সন্ধ্যায় তার কিছুটা জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে মুখোশপরা ৪ জন লোক এসে তার চোখ বেঁধে একটি সিএনজিতে উঠায়। সেখান থেকে সিএনজিযোগে প্রায় দেড় ঘন্টা যাওয়ার পর অহরণকারীরা তাকে চেচরাখালী এলাকায় রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চলে যায়।
এসময় স্থানীয় এক অটোরিক্সা চালক তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ থানায় নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার যোগাযোগ হয়। জীবন মাহমুদ আরো বলেন, অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ও টাকা কোন কিছ্ইু নেয়নি। কি কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এ বিষয়ে তিনি কোন কিছু বলতে পারেননি।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জীবন মাহমুদকে উদ্ধারের পর এব্যাপারে তাদের পরিবার থেকে সুনির্দৃষ্ট কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে।