মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় চার লাখ। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নামে ৫০ শয্যা হলেও কার্যক্রম চলে ৩১ শয্যার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নানা সমস্যায় জর্জরিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা দীর্ঘ দিন ধরে, বিভিন্ন কক্ষের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, স্লাব থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, সীমানাপ্রাচীর কয়েক স্থানে ভেঙে পড়ায় রয়েছে নিরাপত্তা সঙ্কট।
আরো রয়েছে চিকিৎসক, আয়া, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদের লোকবল সঙ্কট। ৫০ শয্যায় উন্নীত অবকাঠামো থাকার পরও প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি স্বল্পতার কারণে সাড়ে সাত বছরেও অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন আগত রোগীরা।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোসাদ্দেক হোসেন জানান, হাসপাতাল ভবন ও কোয়ার্টারগুলোর বেহাল দশা। আবাসিক ভবনে শঙ্কা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, আয়া ও টেকনিশিয়ানের সঙ্কট প্রায় চরমে। হাসপাতালটিতে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও চিকিৎসক আছেন অর্ধেকের কম। অভাব আছে টেকনিশিয়ানের। মাত্র দু’জন আয়া দিয়ে চলছে পরিচ্ছনতার কাজ। এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে প্রায় সাড়ে আট বছর। বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে আবু তাহের (৩২) নামে এক রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু সিট না পাওয়ায় বারান্দায় ডাস্টবিনের পাশে অপরিচ্ছন্ন স্থানে অস্থায়ী বেড দিয়ে তাকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক।
মহিলা ওয়ার্ডের চিত্রও প্রায় একই রকম, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে গাদাগাদি করে দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।
দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা জানান, প্রায় সাড়ে আট বছর ধরে এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। ওটি চালু করা যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় লোকবল ও সরঞ্জামের অভাবে।
ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়, দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উৎপাতে অতিষ্ঠ তারা। নোংরা ট্রলিতে করে খাবার সরবরাহ করার অভিযোগও করেন তারা।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোসাদ্দেক হোসেন আরো জানান, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘাটতির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।