নোয়াখালীর সেনবাগে জাহেদা খাতুন প্রকাশ মাম্মি (২০) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী সোহেল (২৫) ও ভাসুর ওয়াসিমসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে। নিহত গৃহবধূ মাম্মির চার মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহত মাম্মির মা রাহেলা আক্তার জানায়, দীর্ঘদিন থেকে তার মেয়ের জামাই সোহেল যৌতুক দাবী করে আসছিলো। দাবীকৃত যৌতুক না পেয়ে বুধবার রাতে তার মেয়েকে মারধর করে। এক পর্যায়ে সে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে মেয়ের জামাই, ভাসুরসহ পরিবারের লোকজন তাকে দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তারা মাম্মির লাশ হাসপাতালে রেখেই তারা পালিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে মাম্মির মাসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার হাসপাতালে গিয়ে লাশ সন্তাক্ত করেন।

সেনবাগ থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, সেনবাগ উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সোহেলের সাথে দুই বছর আগে একই উপজেলা ৮নং বীজবাগ ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের ফরাজী বাড়ির সাহাব উদ্দিনের কন্যা জাহেদা খাতুন প্রকাশ মাম্মির (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী যৌতুক দাবী করে আসছিলো। বুধবার রাতেও সোহেল মাম্মিকে পিতার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসাবে টাকা এনে দিতে বলে।

সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাঈন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।