যৌতুকের দাবী মিটাতে না পারায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে মুত্যু বরণকারী জাহেদা খাতুন প্রকাশ
মাম্মি’র ৫ বছরের সেই মেয়ে মুনতাহার ঠাঁই হয়েছে খালা ফারজানার আক্তারের কোলে।

রোববার দুপুরে সেনবাগ থানার ওসি মিজানুর রহমান থানার এসআই মাহফুজুর রহমানের মাধ্যমে ওই শিশু মুনতাহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নানা সাহাব উদ্দিন, মামা আলমগীর ননীর উপস্থিতে খালা ফারজানা আক্তারের হাতে তুলে দেন। ফারজানা সেনবাগ পৌরসভার তুলা বাড়ির আবুধাবী প্রবাসী আবু তাহেরের স্ত্রী। তাদের তিন বছরের
একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে
যৌতুকের জন্য স্বামী সোহেল (২৫), বাসুর ওয়াসিম সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে জাহেদা খাতুন মাম্মিকে
হত্যা করে লাশ দাগনভূঁঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে শিশু মুনতাহাকে বাড়িতে একা রেখে পালিয়ে
যায়।

এরপর প্রতিবেশী শিপনের স্ত্রী জেসমিন ওই শিশুটিকে মাতৃ ¯েœহে লালন পালন করে আসছিলো। ইতিমধ্যে পাষন্ড
পিতা শিশুটিকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জেসমিনকে শিশুটিকে তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বলে। অন্যথায়
তার ভয়াবহ পরিনতিন হবে বলেও হুমকি দেয়। পরে নিরুপায় তারা থানা পুলিশের সহযোগীতায় শিশু মুনতাহাকে তার
খালার নিকট হস্তান্ত করেন। নিহত মাম্মি উপজেলা ৮নং বীজবাগ ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের ফরাজী বাড়ির
সাহাব উদ্দিনের কন্যা।

এঘটনায় মাম্মি’র জেঠা আবদুল আউযাল বাদি হয়ে স্বামী আলী আহম্মদ সোহেল,ভাসুর ওয়াসিম ও দেবন রুবেলের
নাম ্উল্লেহ সহ অজ্ঞাত আসামী বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

আরো পড়ুন :

লক্ষ্মীপুরে নববধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা  
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক নববধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গৃহবধূর নাম লামিয়া আক্তার ঐশি। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করে বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে।

আজ রোববার ভোর রাতে সদর উপজেলা বশিকপুর এলাকার শেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্বামী আরিফ হোসেনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।


নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ৭ মাসে আগে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের আমির হোসেন ছেলে আরিফের সঙ্গে একই উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে লামিয়ার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে লামিয়ার বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আরিফ। এর মধ্যে ৪ লাখ টাকা দেয়া হয় তাদের। কিছুদিন পর অবশিষ্ট এক লাখ টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করে তারা। পরে তা না দেয়ায় বিভিন্ন সময় লামিয়াকে মারধর করে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

রোববার রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে লামিয়াকে হত্যা করে তারা।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।