কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোটরবহর নিয়ে যাওয়ার পথে ভৈরব কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের আচমিতা নামক স্থানে এমপি এড. সোহরাব উদ্দিন গ্রুপ এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৬ জন। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে কটিয়াদী, ভাগলপুর এবং কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য এমপি সোহরাব উদ্দিনের বিশাল মোটরবহর নিয়ে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলে আচমিতা চারিপাড়া নামক স্থানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এমপির গাড়ি বহরের গতিরোধ করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ফাঁকাগুলি চালায় এবং গাড়িতে হামলা করে। ঐ সময় এমপির গানম্যান পাল্টা ছোড়রা গুলি ছুরলে উভয় পক্ষের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। এমপি সোহরাব উদ্দিনের গাড়ি বহর থেকে লোকজন একযোগে ধাওয়া দিলে জায়েদসহ তার দলের বেশ কয়েকজন পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। উত্তেজিত লোকজন বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ ঐ বাড়ি থেকে জায়েদসহ শাকিল, লিটন, আলমগীর, আল আমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এদিকে গুলিবিদ্ধ অনিক (২০), বাচ্চু মিয়া (৪০) বোরহান উদ্দিন(৩০), ইউসুফ (৩৫), কাউসার (৩৫) ও প্রীতমকে(৩২) কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত কাসেম, বোরহান, মাসুক, নাইম ও ইফতেখার ও সানোয়ারকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষ শুরু হলে প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মোটরবহরে থাকা বহু নারী পুরুষ অনুষ্ঠানে যোগদান না করে বাড়ি ফিরে যায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কটিয়াদী থানার ওসি জাকির রব্বানী বলেন, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তার গাড়ি বহরে জায়েদ গ্রুপ গুলি করলে আত্মরক্ষার্থে এমপির গানম্যান পাল্টা গুলি ছুড়ে। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কেউ মামলা করেনি। মামলা করলে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরো দেখুন : ঈশ্বরগঞ্জের সাবেক এমপি শাহীন আটক
মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ); ০৮ অক্টোবর ২০১৮
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নূরুল কবীর শাহীনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার কাকনহাটি গ্রামের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, আটকের পরপরই গোলযোগের আশঙ্কায় তাকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শাহ নুরুল কবীর বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি ২০০১ সালে ময়মনসিংহ-৮ আসন (ঈশ্বরগঞ্জ) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
এদিকে শাহ নূরুল কবীর শাহীনকে আটকের পর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আজ সোমবার সকালে উপজেলার পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এলাকার চৌরাস্তা মোড়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে টহল দিচ্ছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাংশ।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহমেদ কবির জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় শাহ নুরুল কবীর শাহীনকে আটক করা হয়েছে। আজ সোমবার তাকে আদালতে নেয়া হবে।






