শরীয়তপুরের জাজিরার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চিডাচর আব্বাস বেপারী কান্দি গ্রামের বসতঘরের ভিতর থেকে খুকুমনি আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়।


নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন খুকুমনিকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। নিহত খুকুমনি একই ইউনিয়নের বিদগাও গ্রামের হারুন রশিদ জমদ্দারের মেয়ে।

জাজিরা থানা ও নিহতের ফুফাতো ভাই আলী হোসেন জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের আব্বাস বেপারী কান্দি গ্রামের সিরাজ বেপারীর মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে ইমান বেপারীর সাথে পার্শ্ববর্তী গ্রামের হারুন রশিদ জমদ্দারের মেয়ে খুকুমনির বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তাদের ঘরে দুইটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৩) ও ছোট মেয়ে আখিমনির বয়স এক বছর। ১৫ দিন আগে মালয়েশিয়া থেকে ছুটিতে দেশে ফেরেন ইমান বেপারী। দেশে ফিরে স্ত্রী খুকুমনির সাথে কয়েকদফা পারিবারিক কলহ হয় ইমান আলীর। এসময় ইমান আলী খুকুমনিকে কয়েকদফায় মারধর করেন।

এ নিয়ে পারিবারিকভাবে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনাও হয়। বুধবার সন্ধ্যায় আবারো শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামীর সাথে কলহ শরু হয় খুকুমনির। এক পর্যায়ে খুকুমনিকে মারধর শুরু করে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

খবর পেয়ে খুকুমনির বাবার বাড়ির লোকজন ছুটে এসে দেখে ঘরের মধ্যে খাটের উপর খুকুমনির লাশ পড়ে আছে।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

নিহত খুকুমনির ভগ্নিপতি হাবিব বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা খুকুমনির উপর প্রায়ই নির্যাতন করতো। একটি স্বর্নের চেইন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে স্বামীর সাথে খুকুমনির দ্বন্দ্ব চলছিল।

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি করে যে, স্বর্ণের চেইনটি খুকুমনি চুরি করেছে। ইমান বেপারী মালয়েশিয়া থেকে বাড়ি ফেরার ২৫ দিন আগে হারিয়ে যাওয়া চেইনটির পরিবর্তে খুকুমনিকে আরও একটি চেইন দেয়া হয়।

হাবিব বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন অনেকবার খুকুমনিকে মারধর করে। গতকাল বুধবার মারধরের খবর শুনে বাড়িতে গিয়ে খুকুমনির লাশ পড়ে থাকতে দেখি। স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন খুকুমনিকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

জাজিরা থানার ওসি মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, নিহত খুকুমনির গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের দাবি পারিবারিক কলহের জের ধরে খুকুমনিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সবাই পলাতক রয়েছে। আমারা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।