সতেরো দিনের ব্যবধানে গোয়ালন্দে চার যুবকের লাশ উদ্ধার করা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ভীতি ও আতঙ্ক।
আজ মঙ্গলবার সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা সংলগ্ন পুকুর থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এই লাশ নিয়ে গত ১৭ দিনে উপজেলায় মোট চারটি লাশ উদ্ধার করা হলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ১টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে পোড়াভিটায় চলাচলের জন্য বাঁশের মাচার পাশে বস্তাবন্দি একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই পরিমল কুমার জানান, ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিনদিন আগে আনুমানিক ২৬ বছরের ওই যুবককে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। উদ্ধারকৃত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী নিহতের শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর দৌলতদিয়া ৬নম্বর ফেরিঘাট এলাকা থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর গত ২৩ অক্টোবর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মরাপদ্মা নদী থেকে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর গত ২৭ অক্টোবর দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুল সংলগ্ন আইনউদ্দিন ব্যাপারীপাড়া মরাপদ্মানদীর পাড় থেকে মঞ্জু শেখ (২৮) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। মঞ্জুর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলটি ছিনতায়ের জন্যই দৃবৃর্ত্তরা তাকে হত্যা করে বলে ধারণা করা হয়।
অবশ্য গোয়ালন্দ থানার ওসি বলেছেন, উদ্ধারকৃত চারটি লাশের মৃত্যুরহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। জনমনে ভীতি ও আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।
আরো পড়ুন: শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা, ১০ জুলাই ২০১৮
নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার থেকে পরে পাঁচজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরী দল।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় তাদের লাশ ভেসে ওঠে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, উদ্ধারকৃতদের নাম দীন ইসলাম (৩৫), ইমন (১৮), ওসমান গনি (৪০) ও জনি (২২)। সুজন (১৯) নামে আরো একজন নিখোঁজ রয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার রাত সোয়া ৯টায় শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী নিয়ে মদনগঞ্জ খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ট্রলারটি মোড় ঘুরাতে গিয়ে ঘাটের পাশে আগে থেকে থামিয়ে রাখা লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এসময় ট্রলারের উপরের ছাউনী ভেঙ্গে কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে গেলেও সাঁতরে তীরে উঠে যায়। আর ঘাটে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য ট্রলার গিয়ে অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে। স্বজনরা সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তল্লাশী শুরু হয়। নিখোঁজরা হলো, ওসমান গণি (৪০), জনি (২২), সুজন (১৯), ইমন (২২) ও দিন ইসলাম (৩৫)।
নারায়ণগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেওয়াজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজের স্বজনরা এসে লাশ সনাক্ত করেছে। তাদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নিখোঁজ অন্যদের সন্ধানে নৌ পুলিশও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।






