মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট ও সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের কাছে ফোনের মাধ্যমে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের খুন ও গুম করার হুমকি প্রদান করা হয়। এতে ভুক্তভোগীসহ সাধারণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
জানা গেছে, শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ আরশ্বাদুল্লাহ ও গাইনি চিকিৎসক আলমগীর হোসেনকে গত শনিবার মোবাইল ফোনের মাধ্যেমে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট ও সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে। একইভাবে গত ২২ অক্টোবর দুপুরে অগ্রণী ব্যাংক আরিচা ঘাট শিবালয় শাখার সেকেন্ড অফিসার শরীফুল ইসলামের কাছে ০১৭৭৭৯২০৭৩৫ নম্বর থেকে ফোন করে অনুরূপ চাঁদা দাবি করে। তারা শরীফুলকে বলেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে সর্বহারা দলের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। পরে আরেকটি নম্বর থেকে ফোন করে ০১৯০৯৩০৮৮১৭ ও ০১৬৩৯৪১৬১৪০ বিকাশ পারসোনাল নম্বর দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আরশ্বাদুল্লাহ জানান, গত শনিবার আমার মোবাইলে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট ও সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে সে চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোন কেটে দেয়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি।
অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সর্বহারা পরিচয়ে আমার কাছে টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আমি ও আমার পরিবারে সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে আমি এ ঘটনায় পরের দিন শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৯১৭) করেছি।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ইমাম হোসেন চাঁদা দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের মাধ্যমে প্রতারকচক্রকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।