ভৈরব উপজেলার স্থানীয় তিন সাংবাদিকসহ বিএনপির ১৯৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুবলীগ। গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের চণ্ডিবের গ্রামে যুবলীগ কর্মীদের মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগে ২৩ নভেম্বর পৌর যুবলীগ সভাপতি ইমরান হোসেন ইমন বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলা করেন।
এর আগে ১৯ নভেম্বর একই ঘটনায় বিএনপির ৩৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে আরেকটি মামলা করে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মীদেরই নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে রাখতে ভৈরব যুবলীগ ২৩ নভেম্বর তিন সাংবাদিকসহ ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ দিকে পাঁচ দিনের ব্যবধানে দু’টি মামলা হওয়ায় আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে বিএনপির কর্মিসভা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
জানা যায়, মামলায় ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো: শাহিনকে প্রধান আসামি করে ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ১০০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে দৈনিক দিনকাল ভৈরব প্রতিনিধি সোহেলুর রহমান, এশিয়ান টেলিভিশন ও নয়া দিগন্ত ভৈরব সংবাদদাতা সজীব আহমেদ ও দৈনিক ইনকিলাবের ভৈরব সংবাদদাতা এম আর রুবেল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে মামলায় সাংবাদিকদের মিথ্যা আসামি করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের স্ট্যাটাসে জানতে পেরে স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ ভৈরবের সাধারণ মানুষ ও ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিকেরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের চণ্ডিবের গ্রামে বিএনপির উঠোন বৈঠকে যুবলীগ কর্মীরা হামলা চালিয়ে মারধর করলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ বিএনপির সাত নেতাকর্মী এবং যুবলীগের তিন কর্মী আহত হন। পরে রাতেই যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা দ্বিতীয় দফায় ভৈরব বাজারের বিএনপি অফিস, বিএনপি সমর্থিত লোকজনের ভেনিস বাংলা রেস্তোরাঁ, পেয়াজ-রসুনের পাইকারি দোকান, ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশকিছু অটোরিকশা ভাঙচুর করে।



