ফেনী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি অভিযোগ করেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে সরকারদলীয় লোকজন তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে অজ্ঞাত নম্বর থেকে অব্যাহতভাবে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে সরকারদলীয় লোকজন। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, কোনো ধরনের ভয়-ভীতিকে পরোয়া করি না। আমাকে জানে মেরে ফেললেও আমি নির্বাচন থেকে সরে যাবো না।
ফেনী শহরের বিরিঞ্চির আবুল কালামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন শতাধিক নেতাকর্মী তার বাড়ির সীমানা প্রাচীরে বোমা ও বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করেছে। তার বাড়ির চারপাশে সন্ত্রাসীরা পাহারা বসিয়ে আগত নেতাকর্মীদের মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। বাড়ির আশপাশের লোকজনকে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে ফেনী শহরের ফলেশ্বরের বাসভবনে অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি নিজকে সপরিবারে অবরুদ্ধ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগগুলো করেন।
তিনি আরো বলেন, শনিবার সকালে তার বাড়িতে আসার পথে ফরহাদনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, কাজীরবাগ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শামছুল হক, সদর উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক ইকবাল মনি, মো: ইয়াছিন, শাহাদাত হোসেন ও ফতেহপুরের এক বয়োবৃদ্ধকে মারধর করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ছাড়া তার বাড়িতে আগত নেতাকর্মীদের পকেটে থাকা টাকা, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এলাকার দিনমজুরেরাও রেহাই পাচ্ছে না। এসব হামলা নির্যাতনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরিঞ্চির মফিজুর রহমানের ছেলে মীর জাফর আবুল কালাম, জাহিদুল আলম, আজম খান সজিব, আরাফাত, সাদ্দাম, আবদুল হালিম, রফিকুল ইসলাম রুবেল, আবদুল করিম, সুমন, সোনাপুর গ্রামের গণিসহ তিন শতাধিক সন্ত্রাসী।
তিনি এসব বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও অভিযোগ করেন।
বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি গতকাল শনিবার বিকেলে ফলেশ্বর তার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলেছেন, গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন জমা দেয়ার পর থেকে সরকারদলীয় ক্যাডারা তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ারও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাকে হত্যা করা হলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হবে না এবং বাড়ি ছেড়ে যাবো না।
সাবেক এ সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, বিরিঞ্চির মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে আবুল কালামের নেতৃত্বে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাহিদুল ইসলাম, আজম খান সজিব, আরাফাত, সাদ্দাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ফলেশ্বর গ্রামের আবদুল হালিম, রফিকুল ইসলাম রুবেল, আবদুল করিম, আবদুল হালিম সুমন ও সোনাপুর গ্রামের গণি প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি ও গুলি ছোড়ে। এ সময় ৮ থেকে ১০টি হোন্ডায় করে প্রতিটি হোন্ডায় তিনজন করে বাড়ির সামনে এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং সেøাগান দিয়ে বলে ভিপি জয়নাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাও। না হয় মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ভিপি জয়নাল বলেন, সরকারদলীয় ক্যাডারদের অত্যাচার নির্যাতনের বিষয়টি বর্তমান ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে অবহিত করে ক্যাডারদেরকে নিভৃত্ব করার জন্য অনুরোধ করি। এ ছাড়াও নিজাম হাজারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী আবু সুফিয়ান ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহারকে নিজাম হাজারীর সাথে কথা বলেন চলমান ন্যক্কারজনক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অনুরোধ করি। নিজাম উদ্দিন হাজারী এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তারপর নৈরাজ্যের মাত্র আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও ফেনী মডেল থানার ওসি মো: আবুল কালাম আজাদকে জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য বারবার অবহিত করা হয়। তারা মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি। এখনো ক্যাডারা সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছে।
লিখিত বক্তব্যে এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় ফলেশ্বরের বাড়ির প্রধান প্রবেশপথ, সদর উপজেলা কার্যালয়ের মোড়, বাড়ির পশ্চিম উত্তর পাশের ফেনী বিলোনীয়া রেললাইন, সদর হাসপাতাল মোড়, পেট্রোল পাম্প, ফেনী পলিটেকনিক, বিএড কলেজ মোড়, পুরাতন রানীরহাট এবং বাড়ির পূর্বপাশের ফলেশ্বর পরশুরাম সড়কের সংযোগ মুখে তিন শতাধিক সশস্ত্র লোক অবস্থান করে। তাদের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, দামা, কিরিচ, হাত বোমা, চাপাতি, রড, লাঠি রয়েছে। অবস্থানের পর থেকে তারা চেনা-অচেনা অনেক মানুষকে শারীরিকভাবে আঘাত করে।
তিনি বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ, ফেনী সদর আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। আসন্ন নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে আমাকে সদর আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবেন বলেন তিনি জানান।
এ সময় জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলে রাশেদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।
নিজাম হাজারীর বক্তব্য : জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এমপি উল্লিখিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিএনপির প্রার্থী ভিপি জয়নালের বাড়িঘরে হামলা বা পাহারা বসানোর প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ অসত্য ও বানোয়াট দাবি করে নিজাম হাজারী বলেন, যার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে সেই আবুল কালাম আমার সাথে রাজধানীতে রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই বিএনপির নেতারা এ ধরনের কল্পকাহিনী প্রচার করে ফেনীর নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করতে চান।
তিনি দাবি করেন, তিনিও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান। ভোটে হেরে গেলেও তিনি ফেনীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট হতে দেবেন না।