বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত ফেনী-৩ (সোনাগাজী -দাগনভুঞা) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট মনোনীত জাপার হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জে. (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এবং বিশদলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী দাগনভুঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়াই হবে।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত ফেনী-৩ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শিল্পপতি মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন সংসদ সদস্য ছিলেন। পরপর তিনবার প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় উক্ত আসনটি বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহ নির্বাচিত হন।
নির্বাচিত হওয়ার পর কিছুদিন যেতে না যেতে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর সাথে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রহিম উল্যাহর দ্বন্দ্ব সংঘাত শুরু হয়। যা বিভিন্ন সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফলে বহু মামলা হামলার ঘটনা ঘটে।
এ অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উক্ত আসনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টি এরশাদের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জে. (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
নির্বাচনী মাঠে মহাজোট তথা শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সোনাগাজী ও দাগনভুঞা উপজেলা আওয়ামী লীগ গ্রহণ করে অধিকাংশ নেতাকর্মী উচ্ছাসের সাথে সংবর্ধনা দিয়ে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি হাজী রহিম উল্যাহ মহাজোট প্রার্থী মাসুদ চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক তিনবারের জনপ্রিয় এমপি মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ২০১৫ সালে মৃত্যুর পর উক্ত আসনে বিএনপি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ১০ বছরের শাসনামলে মামলা-হামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে তেমন কেউ এগিয়ে না আসা এবং সাংগঠনিক দৃশ্যমান কোনো কর্যক্রমে ভূমিকা না রাখতে পারায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা অনেকে রাজনীতি ছেড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।
এ অবস্থায় দাগনভুঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দাগনভুঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর হোসেন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আকবর হোসেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই। তিনি দাগনভুঞার সন্তান হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
তবে নির্বাচনী মাঠে এখন পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কোনো তৎপতা দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে কোনো নির্বাচনী আমেজ নেই। মামলা-হামলার ভয়ে সবাই যে যার মতো নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।
এ অবস্থায় উক্ত আসনে বিএনপির পক্ষে পূর্বের ন্যায় তৃণ মূল নেতা-কর্মীদের উজ্জিবীত করে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারলে অতীতের ন্যায় বিজয় চিনিয়ে আনা সম্ভব হবে,তা না হলে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
সোনাগাজী-দাগনভুঞ্জা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-০৩, আসনে ০৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সোনাগাজী উপজেলায় ৬০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫ শত ৪০ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লক্ষ ২৮ হাজার ১ শত ৪ জন নারী ভোটার ভোট দিবেন। ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দাগনভুঞ্জা উপজেলায় ৬৪ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৯শত সাতাশ জন ভোটার ভোট দিবেন।
সোনাগাজী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দিন জানান, ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে সবাই ঔক্যবদ্ধ ভাবে অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে মাঠে নামতে হবে। জনসমর্থন কাজে লাগাতে হলে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে অতীতের ন্যায় ভুমিকা রাখতে হবে। সাংগঠনিক ভাবে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের এগিয়ে এসে উৎসাহ সৃষ্টি করতে হবে।
সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম বলেন, উপজেলার অধিকাংশ নেতা-কর্মীর নামে একাধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। তারপরও দলীয় প্রার্থী মাঠে আসলে আমরা মামলা-হামলা মাথায় নিয়ে মাঠে নামবো।






