মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনে বিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চলতি মওসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে। কৃষকেরা শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্তসময় পার করছেন।
পেঁয়াজ রোপণকারী কৃষক মানিক, আবু দাউদ, এনামুল হক, ফারুক, আক্কাস আলী জানান, উপজেলার নারুয়া, ইসলামপুর, নবাবপুর, বহরপুর, জামালপুর, বালিয়াকান্দি, জঙ্গল ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মাঠেই চলছে পেঁয়াজ চারা রোপণের মওসুম। প্রতিদিন ভোর থেকেই পেঁয়াজের চারা উত্তোলনের পর জমিতে রোপণ করা হয়। জনপ্রতি ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা করে দেয়া হচ্ছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত পেঁয়াজ রোপণের কাজ করা হয়। তার পর আর কেউ মাঠে থাকে না। এক কেজি দানার পেঁয়াজ চারা ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারার দাম বেশি হলেও কৃষকেরা জমি খালি না রেখে পেঁয়াজ চারা রোপণে ব্যস্তসময় পার করছেন। অনেকে পেঁয়াজ রোপণ ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন। তবে আগামী ২০ দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলে পেঁয়াজ চারা রোপণ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
তারা আরো জানান, গত বছর পেঁয়াজের কাক্সিক্ষত মূল্য না পেলেও জমি ফেলে না রেখে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পেঁয়াজ লাগানো শুরু করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলাতে এ বছর সাড়ে আট হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকায় চলতি মওসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পেঁয়াজের চাষ হবে। এ অঞ্চলে তাহেরপুরী, ফরিদপুরী, লালতীর কিং, বারী পেঁয়াজ-১সহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের চাষ করা হয়।