আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরাসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের লড়াই করছেন অ্যাডভোকেট সরদার সাখাওয়াত হোসের বকুল। বড় দুই দলের দুই প্রর্থীই এই আসনের তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে নির্বাচকে সামনে রেখে দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফলতাসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, পোস্টারিং এবং দিনরাত ভোটারের কাছে ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ জমজমাট প্রচার চালালেও মাঠে দেখা মিলছে না বিএনপি নেতাকর্মীদের। দেশের বড় দুই দলের প্রার্থীদের এমন দুই মেরুর প্রচারের অবস্থার মধ্যে শুধু ছবি আর প্রতীকসংবলিত পোস্টারেই নির্বাচনের মাঠে আছে অন্যান্য দলের প্রার্থী।
জাতীয় সংসদের ২০২ নম্বর আসন নরসিংদী-৪। নরসিংদী জেলার বেলাব ও মনোহরদী দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। বড় দুই দলের এই দুই প্রার্থী ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নেওয়াজ আলী ভূইয়া, কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীক নিয়ে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা নিয়ে মজিবুর রহমানের প্রতীক ও ছবিসংবলিত পোস্টার দেখা যায় হাটবাজারে।
নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে আসছে। রাতদিন নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের কাছে বিগত সময়ের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন মহাজোট প্রার্থী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলা জুড়েই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর রয়েছে অসংখ্য কার্যালয়।
দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আবারো ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিরক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ৫২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়িয়ালখাঁ ও বহ্মপুত্র নদের খননকাজ শুরু করেন। ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল সেতু, দৌলতপুর মরো নদীর ওপর সেতু, মনতলা পুরনো ব্রহ্মপুত্র সেতুসহ ১০১টি ছোটবড় কালভার্ট নির্মাণ করেন তিনি।
এছাড়া সড়ক ও স্কুল-কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস, সার্ভার স্টেশন, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতাল উন্নীতকরণ, অ্যাম্বুলেন্স, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, সাবস্টেশনসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেন।
অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আবার নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।
অন্যদিকে এই আসন থেকে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১/১১ এর সময় সংস্কারপন্থী হওয়ায় তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এ বছর সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দলে প্রত্যাবর্তন করে মনোনয়ন পান। মনোনয়নের পরই দল গোছানোসহ গণসংযোগ শুরু করেন এই নেতা। কিন্তু সরকারি দলের বাধার মুখে টিকতে পারছেন না তিনি। ফলে এলাকায় জনপ্রিয় এই নেতা নির্বাচনী মাঠে এখনো ভালোভাবে নামতে পারেননি।
দলটির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, একের পর এক মামলা হামলার কারণে এখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকব।
তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে বিভিন্ন স্থানে মারামারির ঘটনা ঘটছে।
নরাসিংদী-৪ আসনটি একটি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪১ হাজার ৭৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৬ হাজার ৭১৮ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭৫ হাজার ২৮ জন।
নরসিংদী-৪ আসনে দুই হেভিওয়েটের লড়াই
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরাসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ...



