সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নতুনবাজার এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানা যুবলীগ সভাপতি ও নাসিক প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতিসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি পক্ষের বাড়িঘর দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ এ সময় ১৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রতক্ষ্যদর্শী ও পুলিশ জানায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতির সমর্থক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের সমর্থক আব্দুল হান্নান শেখের সাথে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় পক্ষই জমিটি তাদের নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ওই জমিতে আব্দুল হান্নান শেখের ভাই ইসমাইল ঘর তুলতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বাধা দেয়। এ সময় আব্দুল হান্নান শেখ ও ইসমাইলের সাথে আব্দুর রাজ্জাকে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আব্দুর রাজ্জাক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতিকে খবর দিলে মতি নতুন বাজার এলাকায় এসে ঘর তুলতে নিষেধ করে। এ নিয়ে মতির সাথে তাদের বাগি¦তণ্ডা হয়। পরে মতি ইসমাইলকে কয়েকটি চর-থাপ্পড় মারে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইসমাইল তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে মতির মাথায় ও মুখে আঘাত করে। এতে মতির মাথা ফেটে যায় ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে মতিকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার আলী আজগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ খবর মতি গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ’ সমর্থক এসে আব্দুল হান্নান শেখ ও ইসমাইলের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাসার আসবাবপত্র ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও মতির পক্ষের লোকজন ১০-১২টি দোকানপাটও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি (৫২), আব্দুর রাজ্জাক (৪০), ফারুক (৩২), সোহলে (৩৮), মনির (৩৯), সোহেল মিয়াসহ (৩০) উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ আহত হয়েছে। এদিকে বেলা দেড়টায় এসও রোড এলাকায় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখা কার্যালয়টি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ আব্দুল মান্নান, সুমন ও ফারুককে আটক করেছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল জানান, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল হান্নান শেখ ও ইসমাইল তারা সবাই মতির সমর্থক। তারা আমার সমর্থক নয়। তাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় মতির সমর্থকরা আমার এক সমর্থককে মারধর করেছে এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার কার্যালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
কাউন্সিলর মতির সমর্থক আশরাফ উদ্দিন বলেন, আব্দুল হান্নান শেখের সাথে আব্দুর রাজ্জাকের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধ মীমাংসা করার জন্য কাউন্সলর মতি কয়েকবার বৈঠকও করেছে। ঘটনার দিন কাউন্সিলর মতিকে আব্দুল হান্নান শেখ গালিগালাজ করে। পরে মতি ঘটনাস্থলে গেলে তারা মতিকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, সুবিধা নিতে নিজেদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও কার্যালয়ে আগুন নিজেরাই দিয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন শাহ পারভেজ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে ১৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।