নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেলসুপারের নামে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনবাগ থানার এসআই ফারুক পরিচয়ে সেনবাগের ৬ নম্বর কাবিলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড শায়েস্তানগর গ্রামের মেম্বার আবুল কালাম আজাদ বতুকে মোবাইলফোনে স্বেচ্ছাসেবক দল সেক্রেটারি সামছুল হক সামু কারাগারে স্ট্রোক করেছে এই মর্মে জানান। জেলা জেলসুপারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি মোবাইল নম্বর দেয়। সামছুল হক সামুর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে নিজেকে নোয়াখালী জেলা কারাগারের সহকারী জেলসুপার শহিদ উল্লাহ পরিচয় দিয়ে কারাগারে বন্দী কাবিলপুর ইউনিয়রন স্বেচ্ছাসেবক দল সেক্রেটারি সামছুল হক সামু স্ট্রোক করেছেন। তাকে কারাগার থেকে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতাল এবং সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার দ্রুত চিকিৎসা করা প্রয়োজন এ জন্য ৯০ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকার মধ্যে সরকার ৩০ হাজার টাকা দেবে বাকি টাকা রোগীর অভিভাবকদের দিতে হবে আধা ঘণ্টার মধ্যে। এ জন্য তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের একটি মোবাইল নম্বর দেন যোগাযোগ করার জন্য। এরপর উৎকণ্ঠিত পরিবারের পক্ষ থেকে কথিত ওই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্ট্রোক হওয়া রোগী লাইফ সাপর্টে রয়েছে। তার হার্টে ৯৯ ভাগ ব্লক ধরা পড়েছে। ১৫ মিনিটের মধ্যে অপারেশন করা না গেলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নোয়াখালী থেকে কুমিল্লা পৌঁছতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। যেভাবে হোক যেন রোগী সামছুল হক সামুর ছিকিৎসা শুরু হয়। তখন ওই চিকিৎসক ৬০ হাজার টাকা হাসপাতালে রকেট নম্বরে পাঠানোর জন্য ০১৯০৮৫৮১৭০৭ ও ০১৯০৮৫৮১৭০৬ বলেন।
বিষয়টি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোদীদলীয় চিফহুইপ সেনবাগ থেকে ধানের শীষ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জয়নুল আবদিন ফারুককে জানান।
এরপর জয়নুল আবদিন ফারুক নোয়াখালী জেলা জেলসুপারের সাথে যোগাযোগ করলে জেলসুপার জানান, তাদের কোনো বন্দীর কোনো ধরনের অসুবিধা হয়নি। এটি প্রতারণা। এরপর সামছুল হক সামুর পরিবার ওই নম্বরে কোনো টাকা পাঠায়নি। এরপর শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তার সাথে কারাগারে দেখা করেন।



