একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা। অথচ এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ হচ্ছে না বছরের পর বছর।
জানা যায়, রাজবাড়ী শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বাড়ীগ্রাম এলাকায় রাজবাড়ী সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার সংযোগস্থল। এ দু’টি উপজেলার সংযোগস্থলকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ৪৫ মিটারের একটি নদী হড়াই। এ নদীর দুই পাশেই রয়েছে পাকা সড়ক।
সদর উপজেলার বাড়ীগ্রামের বাঞ্জারাম মণ্ডলের ছেলে কৃষক পরিমল মণ্ডল জানান, এখান থেকে পাশের বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার মাত্র চার কিলোমিটার আর জামালপুর বাজার সাত-আট কিলোমিটার। অথচ উৎপাদিত ফসল বহরপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হয় আর জামালপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ঘুরতে হয় ২৩ কিলোমিটার। এতে কৃষকদের ফসল বাজারে নিতে অনেক খরচ করতে হয়। এতে তারা লোকসান গুনছেন বছরের পর বছর। এখানে একটি সেতু হলে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দূর হতো এবং তারা ফসলের ন্যায্য দাম পেত।
হড়াই নদীপারের বাসিন্দা বালিয়াকান্দি উপজেলার পাকালিয়া গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে ভ্যানচালক কহিল শেখ জানান, বাড়ীগ্রাম এলাকা থেকে বহরপুর বাজার চার কিলোমিটার, জামালপুর বাজার আট কিলোমিটার, বানিবহ বাজার চার কিলোমিটার এবং মুলঘর ইউনিয়নের কুটিরহাট বাজার মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। তারা এ অঞ্চলের মানুষ একটি সেতুর অভাবে কোনো দিন বানিবহ ও কুটিরহাটে যেতে পারে না। আর যদি যেতেই হয় তাহলে ঘুরে যেতে হয় ১২ কিলোমিটার আর কুটির হাট যেতে পারি দিতে হয় ১৫ কিলোমিটার। তাদের প্রাণের দাবি একটি সেতু নির্মাণ করে এ জনদুর্ভোগ লাঘব করবে সরকার।
বাস শ্রমিক ছিদ্দিকুর রহমান খান জানান, রাজবাড়ী থেকে মধুখালীর দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। বাড়ীগ্রামে সেতুটি নির্মাণ হলে দূরত্ব কমে ২৮ কিলোমিটার হবে। রাজবাড়ী থেকে বানিবহ হয়ে বাড়ীগ্রাম দিয়ে মধুখালী যাওয়ার উপযোগী রাস্তা থাকলেও বছরের পর বছর একটি সেতু না থাকায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে তাদের মধুখালী যেতে হয়।
বানিবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু জানান, চারটি ইউনয়নের মহনাস্থল বাড়ীগ্রাম এলাকা। এ অঞ্চলে হাজার হাজার একর আবাদি অনাবাদি জমি রয়েছে। বর্ষা মওসুমে এখানে অতিথি পাখিরা আসে। এ ছাড়াও রাস্তার দুই পাশে পানি জমে এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে হাজার হাজার মানুষ সপরিবারে বেড়াতে আসেন। নৌকায় ঘুরে ঘুরে যার যার বাহনে বাড়ি ফিরলেও একটি সেতুর জন্য এপারের মানুষের সাথে ওপারের মানুষের দূরত্ব থাকে অনেক। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাড়ীগ্রামে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ বানিয়ে দিয়েছি। এ সেতুর দাবিতে সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর সাথে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন অচিরেই সেতুটি নির্মিত হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহু জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই এমপি কাজী কেরামত আলী নির্দেশ দিয়েছেন। এটাকে ডিপিপিভুক্ত করা হয়েছে। অচিরেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।