ফেনী শহরের রামপুর সৈয়দ বাড়ি লেনের কাশেম কটেজে ৪ তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রধান আসামী কাউসার বিন কাশেম নিলয়সহ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে এক আসামী রিমান্ডে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাশেম কটেজের মালিক আবুল কাশেমকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ছেলে কাউসার বিন কাশেম নিলয় ইয়াবা ও রমরমা দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আবুল কাশেমের ৪ ছেলে। বড় ছেলে ইতালি, মেঝ ছেলে স্ত্রী হত্যার দায়ে কারাগারে, কাউসার ও তার ছোট ভাই ইয়াবা ও নারী ব্যবসার সাথে জড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা পিতা-মাতা দুইজনকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে শহরের পাঠান বাড়ি রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
বাবা-মা চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদেরকে এনে তারা দেহ ব্যবসা করে। এখানে ফেনী শহরের অনেক নামীদামী লোকদের আনাগোনা রয়েছে। কাউসার বিয়ের কয়েক বছর পর তার স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নেশার জগতে প্রবেশ করে। বাবা-মা চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদেরকে এনে ৬ মাস ধরে দেহ ব্যবসা শুরু করে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার ১০নং মোল্লা ভিলার বাসিন্দা মো: মোজাম্মেল হকের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ার সাথে পরিচয় হয়। প্রিয়ার মাধ্যমে ফাতেমাসহ আরো দুই তরুণীকে এনে দেহ ব্যবসা করে কাউসার। কয়েকদিন পর কৌশলে প্রিয়া পালিয়ে যায়। ওই তরুণীদেরকে বাসায় বন্দী রেখে ইয়াবা ও দেহ ব্যবসা চালায়। নির্বাচনের পর লোকজন না আসায় তাদেরকে মারধর করে কাউসার। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে ৭ জানুয়ারি শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহজাহান মিয়া ওই বাসার তালা ভেঙ্গে জিম্মিদশা থেকে তিন নারী ও ৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এসময় ফেনী সদর উপজেলার মধ্যম কাছাড় গ্রামের আবু ইউছুপের ছেলে সায়েম, সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ব্রামনী বাজার গ্রামের আলী ফরহাজী বাড়ির আবুল কালামের ছেলে আালিফুল ইসলাম আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে রামপুর সওদাগর বাড়ির সামনে থেকে কাউসার ও ছোটনকে গ্রেফতার করে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান মিয়া। এ ঘটনায় কাউসারকে প্রধান আসামি ও ১২-১৩ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান মিয়া জানান, মামলার মূলহোতা কাউসারসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
রিমান্ডে ওমায়ের
চার তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের ঘটনার ওমায়েরের তিনদিনের রিমান্ড রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। রবিবার দুপুরে রাণীরহাট কারাগার থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ফেনী মডেল থানায় নিয়ে আসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: শাহজাহান মিয়া।
পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে মো: ওমায়েরকে সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসেনের আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন করে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: শাহজাহান মিয়া। শুনানী শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
তবে ঘটনার মূল আসামী কাউসার বিন কাশেমকে গ্রেফতার করতে না হলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের রামপুর এলাকা থেকে মো. ছোটন (৩০) নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
৭ জানুয়ারি কাউসারদের বাসা থেকে ৪ তরুনীকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই ফাতেমা নামের এক তরুণী বাদী হয়ে কাউসার বিন কাসেম (৩৩) কে প্রধান আসামী করে ১২-১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পরপরই রামপুর এলাকা থেকে ওমায়েরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।



