দাউদকান্দি থেকে মাটি বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরঝাপটা গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মঙ্গলবার ভোররাতে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকরা ফতুল্লার বক্তাবলীতে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করতেন। নিখোঁজ বেশিরভাগ শ্রমিকের বাড়ি পাবনা জেলায়।
জানা গেছে, দাউদকান্দি থেকে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে মাটি বোঝাই করে ফতুল্লার বক্তাবলীতে রওয়ানা দেয়ার পর মেঘনা নদীর চরঝাপটা এলাকায় তেলবাহী একটি ট্যাংকারের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় সাঁতরে ১৪ জন শ্রমিক নদী তীরে উঠতে পারলেও বাকীরা নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে স্বজনরা মেঘনার তীরে ভিড় জমানোর পর পুলিশ ও প্রশাসন উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের মধ্যে ১৮ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- পাবনার ভাঙ্গুরিয়া উপজেলার খানমরিচ ইউপির মুন্ডুমালা গ্রামের গোলাই প্রামাণিকের ছেলে সোলেমান হোসেন, জব্বার ফকিরের ছেলে আলিফ হোসেন ও মোস্তফা ফকির, গোলবার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন, আব্দুল মজিদের ছেলে জাহিদ হোসেন, নূর ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন, ছায়দার আলীর ছেলে তুহিন হোসেন, আলতাব হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন, লয়ান ফকিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম, দাসমরিচ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী ও মান্নাফ আলী, তাজিম মোল্লার ছেলে মোশারফ হোসেন, আয়ান প্রমাণিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, সমাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মাদারবাড়িয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আজাদ হোসেন, চন্ডিপুর গ্রামের আমির খান ও আব্দুল লতিফের ছেলে হাচেন আলী এবং উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রহমত আলী। এরা সবাই ফতুল্লার ইটভাটার মাটিকাটা শ্রমিক ।
নদী সাঁতরে পার হওয়া শ্রমিক মামুন বলেন, ‘ওই সময় চারিদিকে অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আমরা ঠান্ডা পানির মধ্যে সাঁতরে ভেসে ছিলাম। মনে হচ্ছিল মৃত্যু খুব কাছে। পরিবারের কথা মনে পড়ছিল। আর ১০ মিনিট পানিতে থাকলে মারা যেতাম। মাটির ট্রলার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে না পৌঁছার কারণে মালিক পক্ষ মোবাইলফোনে কল দিয়ে বন্ধ পায়। সন্দেহ হলে তখন তারা আরেকটি ট্রলার নিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে।
শ্রমিক শাহ আলম জানান, ট্রলারের মাথার দিকে ছিলেন মামুন আর পেছনের দিকে ছিলেন শাহ আলমসহ বাকিরা। ট্রলার ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে তারা ১৪ জন উঠে আসতে পারলেও অন্যরা পারেনি।
মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাকউজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার শনাক্ত করা যায়নি। তবে নদীতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধার ও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে।






