বাস চাপায় নারী গার্মেন্ট শ্রমিক নিহতকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৃৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গার্মেন্ট ভাংচুর ও রাস্তায় গাছ ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।

নারায়ণগঞ্জ- ডেমরা সড়ক প্রায় দেড়ঘন্টা অবরোধ করে রাখে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অবরোধের কারনে ঐ সময় সড়কে যান চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ওই সড়ক অবরোধের প্রভাবে ঢাকা -চট্রগ্রাম মহসড়কের শিমরাইল ও ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানজট দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় ইকবাল গ্রুপের কৃষ্ণচুড়া ফ্যাশনের নারী শ্রমিক মালা আক্তার মিতুকে একটি বাস চাপা দেয়। ওই বাস চাপায় মিতুর আরো কয়েকজন সহকর্মী আহত হয়। মিতুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা। মিতু মারা যাওয়ার খবর সকালে তার সহকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা প্রতিবাদ ও বিচারের দাবীতে নারায়ণগঞ্জ -আদমজী-ডেমরা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেশ কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানার দরজা জানালা ভাংচুর করে। পরে শিল্প পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। নিহত গার্মেন্ট শ্রমিক মিতু নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ এলাকার ফুল মিয়ার মেয়ে

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মিতুসহ কয়েকজনকে একটি বাস চাপায় দেয়। পরে মিতুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রাতেই তার মৃত্যু হয়। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে এ খবর পেয়ে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে এবং আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাস্তায় নেমে আসে।

তারা ঘটনার জন্য দায়ী বাস চালকের শাস্তি ও নিহতের ক্ষতিপূরণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী -ডেমরা সড়ক অবরোধ করে। গাছ ফেলে ,রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।

এতে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় শ্রমিকরা আদমজী ইপজেডে অবস্থিত বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানার দরজা জানালা ভাংচুর করে। পরে শিল্প পুলিশ তাদেরকে টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জ করে সড়ক থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নারায়ণগঞ্জের শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে একরাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।