শ্বশুর বাড়ী থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে সৎ ছেলের লাঠির আঘাতে নিহত হয়েছেন এক পিতা। লাঠির আঘাতে নিহত ব্যক্তির নাম আরব আলী (৪৫)। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায়। নিহত আরব আলী নন্দীগ্রাম উপজেলার বিজরুল গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে।

জানা যায়, শনিবার বিজরুল গ্রামে নিজের শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে যান আরব আলী। পরে বিকেল ৫টার দিকে নিজের সৎ ছেলে ময়নুলের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের চাচাতো ভাই মিলন ও ভাই আইয়ুব আলী জানান, নিহত আরব আলী দেড় বছর আগে একই গ্রামের মর্জিনা বেগম (২৩) নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। এই বিয়ের আগে মর্জিনার আরও দুই জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। আরব আলীর সাথে সংসার করা কালে মর্জিনা তার স্বামীকে না জানিয়ে পাশের শেরপুর উপজেলায় চলে যায়।

তারা আরো জানান, গত শনিবার শেরপুর থেকে মর্জিনা তার মায়ের বাড়ি বিজরুল গ্রামে বেড়াতে আসে। খবর পেয়ে আরব আলী স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরবাড়ি যায়। তখন মর্জিনা জানায়, সে তার স্বামী আরব আলীকে তালাক দিয়েছে। এ নিয়ে আরব আলীর সাথে মর্জিনার বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এ সময় মর্জিনার আরেক পক্ষের ছেলে (সৎ ছেলে) ময়নুল ইসলাম মধু (১৫) তার মায়ের পক্ষ নিয়ে সৎ পিতা আরব আলীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আরব আলীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ১০টার দিকে মারা যান তিনি।

আরব আলীর ভাই আইয়ুব আলী জানান, আরব আলীর প্রতিবেশী সম্পর্কে দাদা জয়নাল আবেদীনকে এর আগে তালাক দেয় মর্জিনা। তাই এটা ছিল মর্জিনার তৃতীয় বিয়ে ও আরব আলীর দ্বিতীয় বিয়ে।

নন্দীগ্রাম থানার এসআই মনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকেই মর্জিনা, তার মা জরিনা বেগম ও ঘাতক ছেলে ময়নুল পলাতক রয়েছে। আরব আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোবারক আলী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন জানা গেছে। নিহত আরব আলী একজন কৃষক। তিনিও আগে বিয়ে করেছিলেন। সে পক্ষের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।