রাজবাড়ী জেলা সদর থেকে মধুসূদন কর্মকার (৭০) নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে আটক করেছে র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্প। তিনি রাজবাড়ী সদরের লক্ষীকোল এলাকার হরিপদ কর্মকারের ছেলে।

পরে এ ভুয়া ডাক্তারকে রাজবাড়ীর ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রফিকুল ইসলাম ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড দেন।

র‌্যাব-৮ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে উক্ত ভুয়া ডাক্তার মধুসূধনকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, উক্ত ভুয়া ডাক্তার চিকিৎসাশাস্ত্রে কোনো প্রকার ডিগ্রীধারী না হয়েও প্রতারণামূলক ভাবে নিজেকে আয়ুর্বেদিক ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহিতারা প্রতারিত হয়ে র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পকে অবহিত করলে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল রাজবাড়ী সদর থানাধীন লক্ষীকোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে।

আরো পড়ুন :
না’গঞ্জে ভুয়া নারী ডাক্তারের কারাদণ্ড, হাসপাতাল সিলগালা
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এ সময় একজন ভুয়া নারী ডাক্তারকে আটক করে। ফাহামিদা আলম নামে ওই ভুয়া নারী এমবিবিএস ডাক্তারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার রাত ১১টায় কদমতলীপুল এলাকায় অবস্থিত এম জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ওই ভুয়া নারী ডাক্তারকে আটক করে র‌্যাব-১১।

র‌্যাব-১১’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এম হোসেন জেনারেল হাসপাতালে ভুয়া ডাক্তার ফাহামিদা আলমের নামের পাশে ‘এমবিবিএস, এফসিপিএস’ ডিগ্রি হিসেবে লেখা। নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে দিনের পর দিন তিনি রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। ডাক্তার পরিচয় দিলেও দেখাতে পারেননি কোনো সনদপত্র। তিনি যে হাসপাতালে বসেন সেই হাসপাতালেরও নেই প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র।

পরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফাহামিদা আলমকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও একই সাথে এম হোসেন জেনারেল হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়।

মাদারীপুরে ২ ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার
এস. এম. রাসেল, মাদারীপুর, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকা ও সদর উপজেলার হাউজদি বাজার থেকে দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব -৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। ভুয়া ডাক্তারি সনদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করায় ঐ দুই ডাক্তারকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সোমবার রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সোমবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড সংলগ্ন নিরাময় হাসপাতালের পাশে ‘দৃষ্টি সেবা (চক্ষু পরিচর্যা কেন্দ্র) মেডিকেল হল’ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ভুয়া ডাক্তার এমএম নূরুল ইসলাম (৪৮) আটক করা হয়। এ সময় তার নিকট হতে ৪টি ভুয়া ডাক্তারী সনদ উদ্ধার করা হয়। পবরর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আল মামুন কর্তৃক ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮ ধারা মোতাবেক ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভুয়া ডাক্তার সদর উপজেলার চরফতে বাহাদুরপুর গ্রামের মোঃ সাহেবলঠ মাল এর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে কলেজ রোড এলাকায় নিজস্ব চেম্বারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে।

অপর দিকে সদর উপজেলার হাউজদি বাজারে সঞ্জয় হালদার (৩৪) নামের আরেক ভুয়া ডাক্তার সীমান্ত মেডিকেল হল নামক চেম্বার খুলে অসংখ্য মানুষকে ভুয়া চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন। চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাপটপ ও ডিভাইসের ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি হৃদরোগ, কিডনি, ফুসফুস, যকৃৎ এর সমস্যা, ডায়াবেটিস, টিউমার, ক্যান্সার সহ সকল প্রকার জটিল ও কঠিন রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা প্রদান করেন। রোগ নির্ণয় শেষে তিনি বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষুধ দিয়ে থাকেন। ভুয়া ডাক্তার হাউজদি এলাকার নগেন হালদারের ছেলে।

র‌্যাব আরো জানায়, অপারেশনে প্রতারণা সনাক্তে মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডাঃ মোঃ খলিলুর রহমানের সহযোগিতা নেয়া হয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যেককে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আল মামুন ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। বর্ণিত রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত যন্ত্র এবং ভুয়া সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ র‌্যাব কর্তৃক জব্দ করা হয়।