দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আলালউদ্দিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ডিগ্রি স্তরে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ আদায় ও শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা চালু নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে। কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী স্বাক্ষরিত অভিযোগটি চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র ফি’র নামে কলেজের ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া কলেজের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চার লাখ ৮০ হাজার টাকার হদিস নেই বলে তারা জানান। অধ্যক্ষ ডিগ্রি ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নয়জন শিক্ষক নিয়োগ করতে গিয়ে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডোনেশনের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগগুলো আমলে নেয়া হয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া কলেজের আয়ার শ্লীলতাহানির অভিযোগটি চিরিরবন্দর থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ জালাল উদ্দীন মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই অসত্য ও বানোয়াট। তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকে সময়মতো হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলে শিক্ষকেরা তা মানতে রাজি হননি। গত ১৯ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক এক চিঠিতে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (ডিজিটাল হাজিরা) শিক্ষকদের উপস্থিতি বাস্তবায়ন করতে গেলে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাতে অসম্মতি জানান। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো রুটিন তৈরি করে পাঠদানের দাবি জানান। সে রুটিনে সপ্তাহে দু’দিন শিক্ষকদের ক্লাস না রাখায় রুটিনটি বাতিল করা হয়। সুবিধাভোগী কিছু শিক্ষক অসত্য, বানোয়াট ও কাল্পনিক অভিযোগ তৈরি করে বিভিন্ন সরকারি দফতরে পাঠিয়েছেন।



