মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুদি দোকানদার বিশ^জিৎ পাল অর্ধকোটি টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়ে গেছে। তার বাড়ি টেকেরহাট আবাসিক এলাকায়। জানা যায়, বিশ^জিৎ পাল বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও সুদখোর মহাজনদের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে টেকেরহাট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ১৩ লাখ, গুডলাক সমিতি থেকে পাঁচ লাখ, বৃক্ষছায়া সমিতি থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ, আতিয়ার মিয়ার কাছ থেকে ছয় লাখ, মিন্টু ও আসিস মিয়ার কাছ থেকে ছয় লাখ, দিশা সমিতি থেকে ছয় লাখ, বাদশা মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ, নুরালম মাতুব্বরের কাছ থেকে তিন লাখ, তাসলিমার কাছ থেকে আড়াই লাখ ও মাকসুদার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছরে বোস ফার্মেসির মালিক শেখড় বোস, ফটিক বস্ত্রালয়ের শিবনাথ, প্রদীপ ট্রেডার্সের প্রদীপ সাহা, ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন কুণ্ডু, রঙয়ের দোকানদার রঙশিবু, রিংকু স্টুডিওর মালিক অনিমেষ মহন্ত, মুদি দোকানি শান্ত সাহা, মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, সমবায় সমিতি ও মহাজনদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়েছেন। টেকেরহাটের সচেতন মহল জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঋণ নিয়ে ভারতে ঠিকানা গড়ে এসব ব্যবসায়ী হঠাৎ দোকানে তালা দিয়ে রাতে পালিয়ে যান। আর তাদের ঋণের সাক্ষী হওয়ায় অনেক মুসলমান ব্যবসায়ী মামলার আসামি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থার মাদারীপুর জেলা কমিটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু জানান, বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের লোকদের ঋণ দেয়ার ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে। কিছু ব্যবসায়ী ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যাচ্ছেন।