কোন প্রকার সংঘাত সংঘর্ষ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও মোট ভোটের ৪৭ দশমিক ৩৫ ভাগ ভোট প্রদান করা হয়েছে। দিরাই উপজেলায় ৭৪টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ৩১৪ জন।
দিরাই উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রদীপ রায়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন দলের সাবেক উপজেলা সভাপতি আলতাব উদ্দিন(আনারস) ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন কুমার রায়(ঘোড়া) প্রতীকে।
আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকটা নিরবেই নির্বাচনে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর আলম চৌধুরী (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে। দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ান।
অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মী বিহীন সাধারন জনগনের ভালোবাসা নিয়ে নিরবে নিভৃতে ভোটারদের ধারে ধারে ঘোরেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর আলম চৌধুরী। নির্বাচনের দিন যত কাছে আসছিলো দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপট ততই বাড়ছিলো। কোন রকম হাক ডাক ছাড়া ধীরে ধীরে সচেতন ভোটারদের মন জয় করতে থাকেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর আলম চৌধুরী ও তার সমর্থকরা। এরই প্রতিফলন দেখ যায় ভোটের দিন।
দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার পর যখন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটের ফলাফল আসতে থাকে প্রার্থীদের সমর্থকদের মাঝে উত্তাপ উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সবারই প্রতীক্ষা কে হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
৪০টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর ভোটের সকল হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়। বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের আলতাব উদ্দিন ৪ নাম্বারে চলে আসেন। বাকি ৩ প্রার্থীর ভোট যুদ্ধ চলছিলো সমানতালে। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী রঞ্জন কুমার রায় এগিয়ে থাকেন। ৬০টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর ৩ জনের ভোট থাকে প্রায় কাছাকাছি।
অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৭০টি কেন্দ্রের ফলাফলের পর ঘোড়ার দৌড় পিছনে চলে আসে। নৌকা আর মোটর সাইকেলের ভোট সংখ্যা হয় একদম কাছাকাছি। কন্ট্রোল রুম থেকে রাত ১০টায় সর্বশেষ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম।
বেসরকারীভাবে ঘোষিত ফলাফলে সবাইকে তাক লাগিয়ে মাত্র ৬২ ভোটের ব্যবধানে নৌকাকে পরাজিত করে ভোটের দৌড়ে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জুর আলম চৌধুরী।
মঞ্জুর আলম চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২০ হাজার ৯২২ টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রদীপ রায় এর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২০ হাজার ৮৬০টি। ৩য় স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতিকে রঞ্জন কুমার রায় পান ২০ হাজার ১৯৮টি ভোট।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন যুবলীগ নেতা মোহন চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদার। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিশাল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন এডভোকেট রিপা সিনহা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ২ বারের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছবি চৌধুরী।
এদিকে শাল্লা উপজেলা নির্বাচনে ৩টি কেন্দ্র ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকায় বেসরকারীভাবে ফলাফল ঘোষণা হয়নি। তবে প্রায় ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক চৌধুরী আব্দুলাহ আল মাহমুদ(আল-আমীন)।



