মা ও বোনদের নিয়ে এক সময় অনেক কষ্টে দিন কাটলেও নিজের ইচ্ছা শক্তি এবং স্বামী ও বোনদের উৎসাহে পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়া, নকশী কাঁথা, বেড শিট, শিশুদের পোশাক, ওয়ান-টু-ত্রি পিসসহ ইত্যাদিতে হাতের কাজ করে সচ্ছল হয়ে উঠেছেন সারওয়ারী খান। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার পৌর বিনোদপুর ভাজনচালা এলাকার মৃত জাহান উল্লাহ খানের মেয়ে। যার রয়েছে স্বপ্ননীড় মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি প্রতিষ্ঠান। মাস্টার্স ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ূয়া দুই ছেলে, স্বামী মাহমুদ খান ও এক বোনসহ পাঁচজনের সংসার সাওয়ার খানের। যিনি এবার জয়ীতা নির্বাচিত হয়েছেন।
বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ বোন আর মাকে নিয়ে সারওয়ারী খানের সংসারে দেখা দেয় অভাব অনটন। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর। সে সময় চাচা রহমান খানের সহায়তায় কোনো রকম চলে তাদের সংসার। এ অভাব অনটনের মধ্যে পড়াশোনা করতে পারেননি তারা। এর মধ্যেই তিনি শেখেন হাতের কাজ। কিন্তু এ কাজ করলেও তখন কেউ কোনো মজুরি দিতেন না। এভাবেই বিয়ে হয় বড় তিন বোনের এবং তার। বিয়ের পর স্বামীর একটি হাত ঘড়ির দোকান থাকলেও মোবাইল ফোন বাজারে আসায় তেমন ব্যবসায় না হওয়াতে অভাব অনটন থেকেই যায়। অদম্য ইচ্ছা শক্তির ফলে তিনি আবারো হাতের কাজের ওপর জোর দেন এবং কাজ শুরু করেন ও অন্যদের শেখান। কিন্তু অভাব থাকলেও কাজের জন্য পরিবার থেকে তাকে বাড়ির বাইরে তাকে যেতে দেয়া হতো না। এভাবেই তিনি বাসায় বসে অর্ডার নিয়ে কাজ করতে থাকেন। আস্তে আস্তে তার কাজের সুনাম চার দিকে ছড়িয়ে পড়লে কাজের পরিধি বেড়ে যায়। এখন তিনি যে কাজ পান তা একা করতে পারেন না। তাই অনেক অসচ্ছল মেয়েদের দিয়ে তিনি কাজ করান। ফলে ওই মেয়েরাও উপার্জন করতে পারছেন।
যখন থেকে হাতের কাজ পুরোদমে শুরু করেছেন, তখন থেকে সংসারের সব অভাব অনটন দূর হতে শুরু করেছে। এ হাতের কাজের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়া, সংসার খরচসহ দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় খরচ জোগান দিচ্ছেন। এখন তার হাতের কাজের সুনাম জেলাজুড়ে। আগের মতো আর বাসায় গিয়ে অর্ডার আনতে হয় না। কাস্টমাররা এখন তার বাসায় এসে অর্ডার দিয়ে যায়। তার কাজ করা পণ্য দিয়ে প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আয়োজিত মেলায় স্টল সাজানো হয়। ক্রেতারা এসে ছোট বড়দের পোশাক, কাঁথা, শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস ইত্যাদি পণ্য কেনেন এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার দেন।
সারওয়ারী খান বলেন, ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্ট করে হাতের কাজ জানার মাধ্যমে আজ বড় হয়েছেন। এক সময় অনেক কষ্টে দিন গেছে। তখন চাচার সহযোগিতায় পাঁচ বোনকে নিয়ে সংসার চালিয়েছেন তার মা। মূলত হাতের কাজ জানার কারণে তিনি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির অবস্থা ভালো না হওয়ায় আবার হাতের কাজ শুরু করেন। তখন কাজ করলেও টাকা পেতেন না। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন কাজের মান ভালো হওয়ায় তিনি অনেক কাজ করেন এবং ২৫ থেকে ৩০ জনের মাধ্যমেও করান। আগে অনেক চিন্তা করতেন কী হবে কিন্তু এখন আর চিন্তা হয় না। বর্তমানে তার সংসার ভালো চলছে এ কাজের আয় দিয়ে।
এই জয়ী তা বলেন, কাজের জন্য তাকে অনেক সময় ঋণ নিতে হয়। কিন্তু সে ঋণের সুদের হার অনেক। ব্যাংক বা সংস্থা থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পেলে কাজের পরিধি আরো বাড়াতে পারতেন।
রাজবাড়ী মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নূরে সফুরা ফেরদৌস জানান, সারওয়ারী খান তাদের সাথে সমিতি করেন। তার হাতের কাজের মান অনেক ভালো। তারা বিভিন্ন সময় তার তৈরি পণ্য মার্কেট ও মেলায় বিক্রির ব্যবস্থা করে দেন। সারওয়ারী আগে বাড়ির বাইরে আসতেন না। এখন সমিতির মাধ্যমে বাইরে এসেছেন। এবারের জয়ীতা সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি।
নারীদের কর্মসংস্থান করছে স্বপ্ননীড়
মা ও বোনদের নিয়ে এক সময় অনেক কষ্টে দিন কাটলেও নিজের ইচ্ছা শক্তি এবং স্বামী ও বোনদের উৎসাহে পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়া, নকশী কাঁথা, বেড শিট,...



