দেড় বছরের কন্যা সন্তান জান্নাত আর ৯ বছরের ছেলে নাঈম। দুজনেই শিশু। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জান্নাত-নাঈমের বাবা। কিন্তু দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে জান্নাত-নাঈমের বাবা মিন্টুর জীবন এখন সংকটাপন্ন। শিশু সন্তানদের জন্য হলেও বাঁচতে চায় ওদের বাবা মিন্টু।
গত এক বছর ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অনেকটাই হাফিয়ে উঠেছেন মিন্টু। জীবনযুদ্ধে তিনি এখন অসহায় যোদ্ধা। মিন্টুর আকুতি সমাজের কোনো বিত্তবান তার পাশে দাঁড়ালে সে হয়ত ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক জীবন।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটি ইউনিয়নের এলাচিপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মারুফ হাসান মিন্টু (৩৫)। অসুস্থতার কারণে মালয়েশিয়া ফেরত মিন্টু এখন অসহায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি না পাচ্ছেন দুবেলা খেতে। না পারছেন ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে।
১০ মাস পূর্বে সম্পূর্ণ ঋণ করে মালয়েশিয়াতে যান মিন্টু। সেখানে চারমাস থাকার পর হঠাৎ-ই তার মাথায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। এই ঘটনার পর ওই মালয়েশীয় কোম্পানি দ্রুত মিন্টুকে পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশে।
দেশে ফিরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ব্রেন টিউমারের পাশাপাশি কণ্ঠনালীতেও দেখা দেয় আরেকটি টিউমার। এদিকে টিউমারের ফলে ধীরে ধীরে মিন্টুর বাম চোখটি নষ্ট হয়ে গেছে। আরেকটি চোখেও এখন কম দেখছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু টাকার অভাবে সঠিক চিকাৎসাও মিলছে না তার।
এদিকে নদীভাঙণের কবলে পড়ে মিন্টুর বসতবাড়ি চলে গেছে নদীগর্ভে। এখন তিন শতাংশ জমির ওপর চার ভাইয়ের পরিবার কোনো রকম ঠাঁই নিয়েছে।
একদিকে ভূমিহীন অন্যদিকে বিদেশে যাওয়ার সময় সুদে নেয়া টাকা পরিশোধের চাপে বিনা চিকিৎসায় ক্রমশ অসুস্থতা বাড়ছে মিন্টুর। গ্রামবাসীর সহয়তায় গত একমাস আগে ৬ হাজার টাকা পেয়েছিলেন মিন্টু। কিন্তু এই টাকা নিয়ে চিকিৎসার কাজে তিনি দুবার ঢাকা গিয়েই শেষ করেছেন।
এই মুহুর্তে শিশু সন্তানদের নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে মিন্টুর পরিবারের। কৃষি কাজের ওপর তার সংসার নির্ভর করলেও অসুস্থতার জন্য মিন্টুর শরীর এখন কোনো কাজের জন্যই উপযুক্ত নয়। ফলে তার পুরো পরিবারকে নির্ভর করতে হচ্ছে অন্যের সাহায্যের ওপর।
চেয়ে ও ঋণ করে পেটের ক্ষুধা মেটালেও টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না। শিশু ছেলে-মেয়েদের দিকে তাকিয়ে মিন্টুর চোখে মুখে আর ক’টা দিন বাঁচার স্বপ্ন। খুঁজছেন কারও সহযোগিতা।
সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোশারফ বাপ্পি ও দেলদুয়ার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নুসরাত রশীদের সহযোগিতায় ৫ হাজার টাকা দেয়া হয় মিন্টুকে। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদে আর্থিক সাহায্য চেয়ে একটি আবেদনও করেছেন মিন্টু। জেলা পরিষদের সদস্য হামিম কায়েছ বিপ্লব আবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভূক্তভোগী মারুফ হাসান মিন্টু বলেন, আমি সুস্থ্য অবস্থায় মালয়েশিয়া যাই। সেখানে গিয়ে চারমাস পর ব্রেনের পাশে টিউমার ধরা পড়ে। এরপরই কোম্পানি আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। আমার সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ টাকা সুদে ধার নিয়েছিলাম। এখন আমি ঋণ পরিশোধ করতে পারছি না। নিজের চিকিৎসাও করাতে পারছি না। দুই শিশু সন্তানের জন্য আমি বাঁচতে চাই। সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে আমি আমার ব্রেণের পাশের টিউমারের অপারেশনটা করতে পারি। আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই। সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা- বিকাশ নম্বর : ০১৭২৩৮১২৬৭৯। এটা মিন্টুর ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর।
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য হামিম কায়েছ বিল্পব বলেন, মিন্টুকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। সে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসার করানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তার কাছে নেই। বিনা চিকিৎসায় তার দিন কাটছে। সে জেলা পরিষদে আর্থিক সাহায্য চেয়ে একটি আবেদন করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মিন্টুকে আর্থিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। তবে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে মিন্টুর চিকিৎসা করানো সম্ভব। মিন্টু সুস্থ্য হলে তার শিশু সন্তান নিয়ে পুরো পরিবারটা স্বস্তি ফিরে পাবে। সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা- বিকাশ নম্বর : ০১৭২৩৮১২৬৭৯। এটা মিন্টুর ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর।






