পিরোজপুরের এসপি (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ সালাম কবির পিপিএম ও মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সহকারি সচিব নূর নাহার ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।
পৃথক আদেশ থেকে জানা গেছে, ৩১ মার্চ মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ সালাম কবিরকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। অন্য একজন সমপদের কর্মকর্তাকে পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক সচিবালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হল।
মঠবাড়িয়ার ওসি এম আর শওকত আনোয়ার ইসলামকে প্রত্যাহারের বিষয়েও একই কথা উল্লেখ আছে। প্রত্যাহারের আদেশের চিঠি পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠনো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এর পরই পুলিশ সুপার ও মঠবাড়িয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহার করল নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করার জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হোসাইন মোশারেফ সাকু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ২৫ মার্চ আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২৩ মার্চ রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজারে তার নির্বাচনী পথসভা শেষে ফেরার পথে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিনের ভাই আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিনা উস্কানীতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ও তার সহযোগীদের উপর হামলা চালায়। এতে হোসাইন মোশারেফ সাকু, ১০ হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোসহ ২০ জন আহত হয়। পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করায় ২৩ মার্চের ঘটনার রেশ ধরে ২৫ মার্চ সকালে গুলিশাখালী বাজারে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে জনি তালুকদার আহত হয়। চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেয়ার পথে জনি মারা যায়।
সাকু তার আবেদনে উল্লেখ করেন বর্তমানে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুয়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে আবারো মঠবাড়িয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে এর দায় স্থানীয় প্রশাসনের উপর বর্তাবে। এ কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে নির্বাচন স্থগিত রাখা অতীব জরুরী।






