পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসে টাকার বিনিময়ে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
সূত্রে প্রকাশ, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মিজানুর রহমান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের খলিলুর রহমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ শিক্ষক ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। নির্বাচনী প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগে বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা, নিকটবর্তী দায়িত্ব পালনে ২০০-৩০০ টাকা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার প্রায় ৩০ জনকে দায়িত্ব প্রদানের খবর পাওয়া গেছে।
বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধ্র“বজ্যোতি মল্লিক, দীনবন্ধু কয়াল, মনোদ্বীপ কুমার সরকারসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানান, নির্বাচনী প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক নজরুল ইসলাম, রোজিনা খাতুন, আব্দুল আজিজসহ অনেক শিক্ষককে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। হাসান হাফিজুর রহমান লাইব্রেরিয়ান পোস্টে চাকরি করেও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, সিনিয়র শিক্ষকদের পোলিং অফিসার, অধ্যক্ষ-সুপার সহকারী প্রিজাইডিং নিয়োগ পাওয়ায় ক্ষোভের জন্ম দেয়। অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল বিষয়টি নীতিগতভাবে নির্বাচনকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান। শ্যামনগরের একমাত্র মাধ্যমিকপর্যায়ের সরকারি হাইস্কুল নকিপুর সরকারি এইচ সি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. আব্দুল মান্নানকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়েও তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। নৈকাটি, বুড়িগোয়ালিনী, ইসলামাবাদ, গাবুরা নিজামিয়া, যাদবপুর ফুলবাড়িয়া, কে এ আদর্শ অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০-১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব দেয়া হলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মাত্র এক-দুইজন শিক্ষকেরা দায়িত্ব পান। অনেকে নির্বাচন অফিসের মিজানুর রহমান ও মাধ্যমিক অফিসের খলিলুর রহমানের কাছে টাকা দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বাধ্য হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের অনৈতিক কাজে সহায়তা করেন হাফিজুর রহমান ও আবু কাওছার। উপজেলা নির্বাচন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, অর্থ নেয়ার বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিজানুর রহমান ও খলিলুর রহমান টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে যথাযথ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্যামনগরের সুধী মহল।



