নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মধ্যম মোহাম্মদপুর ঠাকুর বাড়িতে একটি প্লাস্টিকের কারখানায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মো: ইসমাইল (৩৫) নামের এক শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। নিহত ইসমাইলের বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুরের সুল্লুকিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে। ইসমাইল দীর্ঘ দিন ধরে সেনবাগের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মধ্যম মোহাম্মদপুর গ্রামের নারায়ণ চক্রবর্তী (ঠাকুরবাড়ির) সুখ রঞ্জন চক্রবর্তী ঠাকুরের ছেলে নারায়ণ চক্রবর্তীর পুষ্পিতা প্লাস্টিকের কারখানায় কাজ করতেন। ঘটনার সময় তিনি ওই ফ্যাক্টরিতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে রাত পৌনে ১২টায়।
খবর পেয়ে চৌমুহনী ও নোয়াখালী থেকে ফায়ার সার্ভিসের মাস্টার মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে দুইটি ইউনিট ও সেনবাগ থানার সেকেন্ড অফিসার সাইফুল ইসলাম ও এসআই সহিদুল আলমের নেতৃত্বে বহু পুলিশ ও এলাকাবাসী সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর আগেই ওই কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কারখানা মালিকের।
এ সময় ফায়ার সার্ভিস ও সেনবাগ থানা পুলিশ অগ্নিকাণ্ডস্থলে তল্লাশি করে ইসমাইল নামে ওই শ্রমিকের পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করে। এ ছাড়া সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
খবর পেয়ে রাত ২টায় নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবির ও সেনবাগ থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদশর্ন করে। এরপর সোমবার সকালে নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ-সার্কেল) মোহাম্মদ শাহাজাহান শেখ ও সেনবাগ উপজেলা নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কবির বেলা ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বাড়ির ভেতরে ওই কারখানাটি চালু রয়েছে। কারখানার মালিকের দাবি ঘটনাটি ঘটে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে। তবে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না।



