নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ায় ২০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা ১০ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, রোববার সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মো: মোশারফ হোসেন বিজয়ী হন। পরাজিত হন বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম। নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ায় উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মান্দারপাড়া এলাকায় গত রোববার রাতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থিত হাবিবুর রহমান হাবু মেম্বার ওরফে হাবু ডাকাতের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী জাকির, ফালান, ফারুক, রহিম, ডালিম ও মোতালিবসহ ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে ককটেল ফাঁটিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। পরে সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা রামদা, ছুরি, দেশীয় তৈরী পিস্তল ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে নৌকার সমর্থক মান্দারপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন, ডা: মো: বোরহান উদ্দিন, হাজী আবুল হোসেন, আরাফাত আলী, বিল্লাল, শরীফ, মাইনুদ্দিন, নুরউদ্দিনসহ ২০ জনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর, আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করে।

ঘটনার সময় বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীরা নূর উদ্দিন, আরফত আলী, হাজেরা বেগম, আবুল হোসেন, ডা: মো: বোরহান উদ্দিনসহ ১০ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। আহতদের মধ্যে নুরউদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার হাতে, পাঁয়ে ও মাথায় ছুরিকাঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় আহত ডাঃ: মো: বোরহান উদ্দিন জানান, ‘আমি বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ঘটনার দিন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমরা সকলে মিলে ভোট কেন্দ্রে ছিলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক ৪ নং ওয়ার্ডের সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবু মেম্বার ওরফে হাবু ডাকাত রোববার রাতে আমাদের সকলের অনুপস্থিতিতে আমাদের কয়েকজনের বাড়িঘরে ককটেল ফাটিয়ে হামলা চালায়। এ খবরে আমরা আমাদের বাড়িতে গেলে হামলাকারীরা আমাদেরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারী নুরউদ্দিন নামে এক রিকশাচালককে হাতে, পাঁয়ে ও মাথায় ছুরিকাঘাত করে। তার অবস্থা আশংকাজনক। হামলায় নারী পুরুষসহ ১০ জন আহত হয়।’

তিনি আরো জানান, ‘সন্ত্রাসী হাবু মেম্বার ওরফে হাবু ডাকাত দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। হাবু ডাকাতের ভাই নুর হোসেন নূরাও ডাকাত ছিল। পুলিশের ক্রসফায়ারে নুরা ডাকাত নিহত হয়। নুরা ডাকাত মারা যাওয়ার পর পরই তার ভাই হাবু এলাকায় ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। হাবুসহ তার লোকজন বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মের সাথে জড়িত এবং সে কয়েকটি মামলার আসামিও। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সে আমাদেরকে দীর্ঘদিন যাবত ঘোড়া প্রতিকে ভোট দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল।’

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান হাবু মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। তবে আমার কর্মীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে।’

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়ে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।