বালিয়াকান্দি উপজেলাবাসী সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে বালিয়াকান্দি সদর কেন্দ্রিক সড়ক এবং বালিয়াকান্দি-নারুয়া, ওয়াপদা-মধুখালী সড়কের বেহাল দশা। দিন দিন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নিচ্ছে। এই সমস্যা তিন বছর অতিবাহিত হলেও সমাধানে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে সেটি সবার অজানা।দিন যাচ্ছে, মাস যাচ্ছে, বদল হচ্ছে ঋতু কিন্তু দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না সড়কে যাতায়াতকারী মানুষের, চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব সড়কের পাশে বসবাসকারীদের।
বালিয়াকান্দি সদরের সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বালিয়াকান্দি হাসপাতাল থেকে চৌরাস্তা হয়ে বাজারের মধ্যে দিয়ে যাওয়া সোনাপুর সড়কটি খুবই ভালো। সম্প্রতি থানা রোড পাকাকরণ করা হয়েছে। বালিয়াকান্দি স্টেডিয়াম মাঠ থেকে সাধু মোল্লার মোড়, সাধু মোল্লার মোড় থেকে ওয়াপদা মোড়, ওয়াপদা মোড় থেকে তালপট্টি, বালিয়াকান্দি চৌরাস্তা থেকে ঘিকমলা প্রায় ১৪ কিলোমিটার, বালিয়াকান্দি থানা গেট থেকে চন্দনা ব্রিজের সড়কের বেশির ভাগ জায়গাতে ভাঙাচুড়া এবং সড়কে ধুলাবালুর প্রলেপ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা আর শুকনো মওসুমে যানবাহন চলার সময় ধুলাবালুতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সড়কের পাশের বাড়িগুলোতে ধুলোর আস্তরণ পড়ে রয়েছে। এ সময় কয়েকটি জায়গা ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কে পানি দিতে দেখা যায়।
দেখা যায়, শুধু ওয়াপদা-মধুখালী সড়কেই ট্রাক, ড্রামট্রাক, ইট ভাটার গাড়ি মিলিয়ে দুই শতাধিক যানবাহন চলাচল করে।
একাধিক পথচারী জানান, সম্প্রতি ড্রামট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে আর ইটভাটার ট্রাকতো সব সময় আছেই যখন যানবাহনগুলো সড়কে চলে তখন ধুলাবালুতে একাকার হয়ে যায়, দম বন্ধ হয়ে আসে। অসুস্থ কোনো মানুষ এ সড়ক দিয়ে যানবাহনে আসা-যাওয়া করলে সে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ট্রাক বা যেকোনো বাহনবাহন সড়ক দিয়ে চললেই সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার ঘূর্ণিপাক, ওই সময় নিঃশ^াস নিতেই কষ্ট হয় তাদের। এ সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর এভাবে সড়কের বেহালদশা থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই।
কয়েকজন যানবাহন চালক জানান, বালিয়াকান্দি চৌরাস্তা থেকে হাসপাতাল ও তালপট্টি সড়কটি ভালো। বালিয়াকান্দি সদরের চারপাশের সড়কগুলোতে ছোট-বড় গর্তের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে কাদা ও শুকনো মওসুমে ধুলাবালুতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে গর্তের ফলে প্রতিনিয়তই তাদের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দামি যন্ত্রাংশ।
বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: কারিম শেখ জানায়, বাসা থেকে বের হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে শরীরে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে যেতে হয়। নাকের মধ্যে ধুলিকণা গিয়ে দম নিতেও কষ্ট হয়।
নারুয়া থেকে বালিয়াকান্দি আসা সাবিনা নামে এক যাত্রী বলেন, নারুয়া থেকে বালিয়াকান্দির যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবত এমন ভাঙা রয়েছে। এতে করে যেকোনো ধরনের যানবাহনে বালিয়াকান্দি যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে, দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
পত্রিকা বিক্রেতা ভরত বলেন, প্রতিদিন দোকান থেকে পত্রিকা নিয়ে বিভিন্ন অফিস ও বাসাবাড়ি পৌঁছে দিই। বালিয়াকান্দি সদরের বেশির ভাগ সড়কের খানাখন্দকের ফলে বর্ষাকালে কাদাপানি আর শুকনো মওসুমি ধুলোবালুতে বড্ড অসহায় হয়ে পড়ছি। এ সময় তিনি দ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি করেন।
রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী খান এ শামীম বলেন, ‘বালিয়াকান্দি সদর কেন্দ্রিক সড়ক এবং বালিয়াকান্দি থেকে নারুয়া, ওয়াপদা-মধুখালী সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কগুলো আরসিআইপি প্রকল্পভুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কগুলোর স্টেমিট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, এখনো আমরা টেন্ডার করার অনুমতি পাইনি। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা টেন্ডারে অনুমতি পাবো, এরপরই সড়কের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারব।’



