নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলাধীন কাচিকাটা ইউনিয়নের পঞ্চাশকুড় গ্রামের লিটন হাঁসের ডিম বিক্রি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সচ্ছল ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে। নিজের পালন করা হাঁসের ডিম বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে তার দিন কাটছে অনেক সুখে। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে ১৯ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে লিটন।
লিটন জানান, আজ থেকে ১৯ বছর আগে তখন লিটন কৃষি কাজ করতেন। নিজের জমি থেকে উৎপাদিত ফসলে ভালো করে চলত না তাদের পরিবার। তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পরিবার চালানো খুব কষ্টকর ছিল। আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য অনেক চিন্তার পর ২০০১ সালে লিটন কিশোরগঞ্জের নিকলী থেকে ২৫০ টাকা করে মোট ২০টি প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁস কেনেন। কিছু দিন যেতেই সেই হাঁস ডিম দিতে শুরু করে। টানা ডিম দিয়ে শেষ হওয়ার পর সেই হাঁস একই দামে আবার বিক্রি করে দেয় লিটন। এতে লিটন ক্রয়ের দামেই হাঁস বিক্রিতে তার পুঁজি চলে আসে। আর ডিম বিক্রির টাকা থেকে যায় লাভ হিসেবে। এর পরেই লিটন আবার ১০০ প্রাপ্ত বয়স্ক হাঁস কেনেন এবং একই ধারায় ডিম দেয়া শেষে কেনা দামে হাঁস বিক্রয় করে দেন। এভাবে বছরের পর বছর লিটনের খামারে হাঁসের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। লিটনের খামারে এখন হাঁসের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।
হাঁস পালনে খরচ নিয়ে লিটন জানান, তেমন খরচ হয় না। কারণ প্রত্যেক দিন সকালে হাঁস বাড়ির পাশে বয়ে যাওয়া চুঙ্গির বিলে ছেড়ে দিয়ে আসেন। আবার সন্ধ্যায় হাঁস নিয়ে আসেন বাড়িতে। সারা দিন হাঁস বিল থেকে শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, কেঁচো, শাপলা, সবুজ শ্যাওলা, পেরি, ক্ষুদে পোনামাছ ইত্যাদি পেট ভরে খেয়ে আসে। সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে আসার পর অল্প দানাদার খাবার দিলেই চলে।
বর্তমানে বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের চেয়ে হাঁসের ডিমের দাম এবং চাহিদা বেশি। বর্তমানে যেখানে এক হালি মুরগির ডিমের দাম ৩০-৩৫ টাকা, সেখানে এক হালি হাঁসের ডিমের দাম ৪৫-৫০ টাকা। হাঁসের ডিমের চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারেরা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যান। বিধায় বেঁচে যায় তার পরিবহন খরচও। তাই হাঁস পালনে লিটনের অল্প খরচে লাভ অনেক বেশি।
বর্তমানে লিটনের খামারে হাঁসের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এর মধ্যে ডিমপাড়া হাঁস রয়েছে প্রায় অর্ধেকের বেশি। হাঁসের ডিম বিক্রি করে লিটনের মাসে আয় হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এখন তার হাঁসের খামার থেকে উপার্জিত অর্থে সংসারের অভাব অনেকটা কমে গেছে। তার বাড়তি আয় থেকে বাড়িতে তিনি একটি টিনশেড বিল্ডিংও নির্মাণ করেছেন। তার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এখানকার অনেক বেকার যুবক বাড়িতে ছোট ছোট খামার করে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকছেন।
মনোহরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এ এলাকার সফল হাঁস খামারিদের মধ্যে রয়েছে মনোহরদী উপজেলার বাঘবের গ্রামের কাজল ও শহীদুল্লাহ, চকমাধবদী গ্রামের রফিকুল ইসলাম, ডোমনমারা গ্রামের বাবুল মিয়া, খিদিরপুরের ইদ্রিস আলী, চকতাতারদির সামসুল হক ও চালাকচরের মামুন মিয়া।
মনোহরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আরিফুল ইসলাম জানান, হাঁসের রোগবালাই কম হয়। তবে মাঝে মাঝে হাঁসের ডাকপ্লেগ ও কলেরা রোগ হয়। এ রোগের প্রতিষেধক হিসেবে হাঁসের বাচ্চার বয়স ২৮ দিন হলে প্রথম ধাপে একটি ডাকপ্লেগ ভ্যাকসিন দিতে হয়। পরে আবার চার মাসের মাথায় ভ্যাকসিন দিলে রোগবালাই আক্রমণের সুযোগ আর থাকে না। গরু-ছাগলসহ হাঁস-মুরগির পালন ও রোগবালাই প্রতিরোধে সেবা দেয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ অফিস পরামর্শ দেন।
হাঁস পালনে লিটনের দিন কাটছে সুখে
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলাধীন কাচিকাটা ইউনিয়নের পঞ্চাশকুড় গ্রামের লিটন হাঁসের ডিম বিক্রি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সচ্ছল ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে। নিজের পালন করা হাঁসের ডিম বিক্রি...



