ঘাস এখন আর ফেলনা নয়, বরং চাষযোগ্য কৃষিপণ্য। যমুনা নদীর চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখন নেপিয়ার ঘাস চাষ করে নির্বাহ করছেন জীবিকা। অথচ কিছুদিন আগেও যমুনার চরাঞ্চলে ছিল বিস্তৃত কাশবন। তখন গোখাদ্যের জন্য চরবাসীকে ভাবতে হয়নি।
নদীভাঙ্গা গৃহহারা চরবাসীর সেকাল-একালে গবাদিপশুই একমাত্র সম্পদ। কিন্তু চরে এখন আর আগের মতো কাশবন নেই। সেখানে এখন বিস্তৃত চরাভূমিতে চাষ হচ্ছে নেপিয়ার ঘাস। ধু-ধু বালুচরের বুক এখন ছেয়ে আছে সবুজ নেপিয়ার ঘাসে। গোখাদ্য হিসেবে নেপিয়ার ঘাস চাষ করে দুর্গম চরের প্রায় এক হাজার ভূমিহীন চরবাসী এখন নিজেদের অভাব মোচনে সক্ষম হয়েছেন। নেপিয়ার ঘাস চাষ করে গোসম্পদ রক্ষা করছেন চরবাসী। খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, মনসুরনগর, কাজিপুর, শুভগাছা, মাইজবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা নদীর দুর্গম চরে দুই লাখ মানুষের বসবাস। নদীভাঙ্গা সর্বস্বহারা এই বিপুলসংখ্যক মানুষ এ চর থেকে সে চর ঘুরে বেড়ায়। গবাদিপশুই তাদের একমাত্র সম্পদ। কিন্তু কাশবন বিলুপ্তির পর পশুসম্পদ অধিদফতর চরে চরে নেপিয়ার ঘাস চাষের জন্য পরামর্শ দিয়েছে চরবাসীকে। প্রভাবশালীদের দখল করা চরের জমি লিজ নিয়ে ভূমিহীনরা এখন অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি চাষ করছেন নেপিয়ার ঘাস। কাজিপুর, শুভগাছা, মাইজবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা নদীর দুর্গম চর এখন দিগন্ত বিস্তৃত নেপিয়ার ঘাসক্ষেত।
খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, মনসুরনগর ইউনিয়নের দুর্গম চরে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস চরের গবাদিপশুর চাহিদা মিটিয়েও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। সোনামুখী, ঢেকুরিয়া, সীমান্তবাজার, মেঘাই নদীর ঘাটে ও সদরে বসেছে নেপিয়ার ঘাসের হাট। এই ঘাস বিক্রি করে কাজিপুরের কান্তনগর চরের এস এম কামাল হোসেন, মাইজবাড়ী চরের আব্দুল কাদের, চরছিন্নার শহিদুল ইসলাম, জর্জিরার রেজাউল করিমসহ অন্তত এক হাজার চরজীবী মানুষ ফিরে পেয়েছেন আর্থিক সচ্ছলতা।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, কাজিপুরে চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ঘাসের চাষ করছেন কৃষকরা।
যমুনার চরে মানুষের জীবনে সচ্ছলতা এনেছে নেপিয়ার ঘাস
ঘাস এখন আর ফেলনা নয়, বরং চাষযোগ্য কৃষিপণ্য। যমুনা নদীর চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখন নেপিয়ার ঘাস চাষ করে নির্বাহ করছেন জীবিকা। অথচ কিছুদিন আগেও যমুনার...



