নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে সোহান আলী (২২) নামের এক যুবকের জিহ্বা কর্তনের ঘটনায় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাগাতিপাড়া মডেল থানায় এই মামলা দুটি দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় জিহ্বা হারানো যুবক সোহানকেও সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে একই ঘটনায় বাড়ির মালিক ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামের যুবক সোহান আলীর জিহ্বা কর্তনের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পৃথক অভিযোগ এনে দুইপক্ষই এক অপরকে দোষারোপ করার পর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে। জিহ্বা কর্তনের শিকার যুবকের পক্ষে তার বাবা শহিদুল ইসলাম এবং তাদের প্রতিবেশী বাড়ির মালিক ফজলুর রহমানের পক্ষে তার স্ত্রী হাসি বেগম মামলা দুটি দায়ের করেন।
মামলার বর্ণিত অভিযোগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান আলীকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী ফজলুর রহমান। সেখানে ফজলুর রহমানের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে সোহানের জিহ্বা কেটে দেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ফজলুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন সোহানের বাবা শহিদুল ইসলাম।
অন্যদিকে সোহানের প্রতিবেশী বাড়ির মালিক ফজলুর রহমানের স্ত্রী হাসি বেগমকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে যুবক সোহানের বিরুদ্ধে মামলা করেন হাসি বেগম।
এদিকে ঘটনার দিন রোববার রাতে বাড়ির মালিক ফজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও সোমবার জিহ্বা কর্তনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। অন্যদিকে যৌন পীড়নের মামলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিহ্বা হারানো যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ পিপিএম বলেন, গ্রেফতারকৃত ফজলুর রহমানকে মঙ্গলবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতার অবস্থায় নাটোর সদর হাসপাতালে আহত যুবক সোহানের চিকিৎসা চলছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবেশীর বাড়িতে রোববার রাতে যুবক সোহান আলীর জিহ্বা কর্তনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই বাড়ির টিউবয়েলের বাধাই করা মেঝে থেকে জিহ্বার কাটা অংশ উদ্ধার করে।






